প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সাধারণ মানুষকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে কিছুটা স্বস্তি দানের উদ্দেশ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ভোজ্যতেল, চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে করের হার একধাক্কায় ব্যাপক হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ও নিত্যপণ্যের খরচ কমিয়ে আনাই সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
৫, ২ ও ১ শতাংশের পরিবর্তে নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় করের হার মাত্র ০.৫% নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
এতদিন মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য আমদানির বা সরবরাহের ক্ষেত্রে করদাতাদের ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করতে হতো। নতুন প্রস্তাবনায় এই বিদ্যমান সব হার একবারে হ্রাস করে মাত্র ০.৫ শতাংশ (দশমিক পাঁচ শতাংশ) নির্ধারণের প্রস্তাব করা হতে পারে।
সরকারের এই কর ছাড়ের তালিকায় থাকতে পারে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬০টি পণ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি এবং ভোজ্যতেল।
এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন প্রকার বীজও থাকতে পারে এই তালিকায়।
এই কর ছাড় হলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের কার্যকর করভার কমে যাওয়ার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা মূল্যস্ফীতির চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
নিত্যপণ্যের বাজারের স্বস্তি কেবল এই ০.৫ শতাংশ উৎসে করের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী ব্যবসায়ের জন্য আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য (০%) শতাংশ কর হারের ঐতিহাসিক প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষা বা অন্যান্য তৈলবীজের তেলের দাম ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর থাকছে বাজেটে। রিফাইনারি বা শোধনাগার কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উৎসে কর কর্তনের হার ১.৫% থেকে কমিয়ে ১% করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে, যা সামগ্রিক পরিবহন ও উৎপাদন খরচ কমাতে পরোক্ষ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন