প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরীর আলোচিত ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন এক প্রবাসী।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত পিএস আরমান উদ্দিন এবং তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানিয়েছেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল (সাতকানিয়া) অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজিতে বাদী আমির হোসেন আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করেছেন। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে, যা তিনি ২০০৬-০৭ সালের দিকে নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিন এবং তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসামিরা বাদীকে শাসাচ্ছিলেন যে তারা ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তার এলাকায় বসবাস করার কারণে চাঁদা দিতে হবে।
গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান উদ্দিন বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন এবং বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় প্রবেশ করে বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দোকান থেকে ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ভেতরে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। পরে আসামিরা দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন।
এসব ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট সকালে আসামিরা বাদীর ভবনে এসে বৈঠক করার কথা বলে। সেখানে আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বাদী অভিযোগ করেন যে আরমান উদ্দিন বাদীকে তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে বলে হুমকি দেন। এছাড়া আদিল বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেয়। একপর্যায়ে আসামিরা বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
সর্বশেষ ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তবে পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় বাদী আদালতে মামলা করার জন্য বাধ্য হন।
বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার কারণে আরমান উদ্দিনের কাছ থেকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাদী আমির হোসেন বলেছেন, “৩০ বছর ধরে আমি প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি। আমার বাবার কেনা জায়গার ওপর মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পুরো মার্কেট কি আসামিরা দখল করেছে?”
মামলার তদন্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেছেন, “মামলাটি তদন্তের জন্য এখনো (নথিপত্র) হাতে পাইনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
এছাড়া জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরমান উদ্দিন জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয় করে দেন। ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে অপহরণ করে মারধর এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এছাড়া বালু মহাল, উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক আজকের পত্রিকায় একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল ইসলামকে কয়েক দফা ফোনকল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন