প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পানির তোড়ে সীমান্তের দুপাশের একাধিক গ্রাম ভেসে গেছে এবং সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া সীমান্ত এলাকায় এই জলচ্ছ্বাস আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের অতিরিক্ত তুষার গলে সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নেপাল ও তিব্বত—উভয় সীমান্ত এলাকাতেই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যৌথ প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিব্বতের দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বড় ধরনের প্রাণহানির কথা নিশ্চিত করেছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকেও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দেশের সবকটি নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা যায়, কাদামাটি ও তুষারগলা পানির প্রবল স্রোত লোকালয় ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ধেয়ে যাচ্ছে। ভোতে কোশি নদীর ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিব্বত ও নেপালের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কটি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে কাঠমান্ডুভিত্তিক চীনা ব্যবসায়ী ইয়ে লিয়াং জানান, সীমান্ত এলাকায় তাদের লজিস্টিকস কোম্পানির সাতটি কনটেইনার ট্রাক ছিল, যেগুলোতে নেপালি কর্মীরা কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না। নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন