১০:০৬ এম
২০২৩ এবং ২৪; টানা দুই বছরে তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা কমছে। একইভাবে চীনও একই পথে চলছে। শীর্ষ এই দুই রফতানিকারক দেশের হারানো বাজার দখলে এগিয়ে এসেছে এশিয়ার আরেকটি দেশ, ভিয়েতনাম। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিকেএমইএ বলছে, কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে এনবিআর কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে দেশের প্রধান রফতানি খাত নিয়ে সরকার-উদ্যোক্তা, যৌথ কর্মপরিকল্পনা সাজানোর তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
ক্রেতার পরিবর্তনের ফলে রুচির সাথে পাল্লা দিতে উদ্যোক্তারা যখন নিজেদের উজাড় করছেন ফাস্ট ফ্যাশনের প্রতিযোগিতায়, তখন স্মার্ট ও সাসটেইনেবলের একটি সমন্বিত চাহিদায় বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। বৈশ্বিক প্রবণতা, আরাম ও টেকসই বিবেচনা, বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধায় তৈরি পোশাক খাতে পলিয়েস্টার, নাইলন, ভিসকোসের মতো কৃত্রিম তন্তুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘ম্যানমেড ফাইবারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সে বাজারে অংশ নিতে পারছি না এখনো।’
আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে তৈরি পোশাকের বিশ্ব বাজারে চীন ও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা, যা এখন মোট হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান বিশ্বে ম্যানমেইড ফাইবারের তৈরি স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাথলিজার ও আউটডোর পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। যদিও ভিয়েতনামের মনোযোগ বেশি থাকলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, ‘আমরা আসলে ম্যানমেইড ফাইবারে যেতে পারছি না, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। আমাদের মনোবল ভেঙে ফেলছে। এসব জটিলতার জন্য নতুন জেনারেশন আসছে না। পুরনো যারা ব্যবসা করছেন, তারা আর সেটাকে বাড়াতে চাচ্ছেন না।’
অবশ্য বাড়তি বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব বোর্ডের হয়রানি, আমদানি নীতি, এবং ব্যাংক ঋণে সুদের ভোগান্তি যোগ হওয়ায় উদ্যোক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন না বলে দাবি করেছে বিকেএমইএ।
আরও পড়ুন: নতুন মেয়াদে সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি করল চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও ফিফা
বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘আমাদের কোনো বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নেই। আমরা যে নতুন একটি আইটেম নিয়ে আসবো, সে সুযোগও দেয়া হয়নি। বিশেষ করে এনবিআর এর আরও, এও এবং ইন্সপেক্টর র্যাংকের লোকেরা চায় না যে, আমরা ব্যবসা করি।’
যদি দেশের প্রধান রফতানি খাত মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে তা রিজার্ভ, আমদানি খরচ ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় চাপ সৃষ্টি করবে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য পিছিয়ে পড়া বাজার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের মিলিতভাবে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ মন্তব্য করেন, ‘রফতানিকারকদের খরচ কোথায় বেড়ে যাচ্ছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, গ্যাস সংকট। এসব নিয়ে বসে কার্যকর সমাধানের দিকে যেতে হবে, যাতে তাদের উৎপাদন খরচ না বাড়ে।’
চলতি বছরে ভিয়েতনামী পোশাকের দাপটে একক সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে চমক, ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কানাডাপ্রবাসী এলুমি
অটেক্সার হিসাবে গেল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ২.৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২৭০ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি করেছে ভিয়েতনাম। একই সময়ে বাংলাদেশ করেছে ১৩৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার মূল্যের পোশাক, যা গত বছরের তুলনায় ৮.৫৩ শতাংশ কম।
পোশাকের দাম ও মুনাফা বেশি। অধিক টেকসই। সহজে কুঁচকায় না। আধুনিক জীবনযাত্রায় স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাথলিজার ও আউটডোর পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। সুতির কাপড় পরিবেশবান্ধব, তবে আধুনিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিয়েস্টারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন