ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

ম্যানমেইড ফাইবারে পিছিয়ে পড়ে চাপের মধ্যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত, রফতানি কমছে


ম্যানমেইড ফাইবারে পিছিয়ে পড়ে চাপের মধ্যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত, রফতানি কমছে

২০২৩ এবং ২৪; টানা দুই বছরে তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা কমছে। একইভাবে চীনও একই পথে চলছে। শীর্ষ এই দুই রফতানিকারক দেশের হারানো বাজার দখলে এগিয়ে এসেছে এশিয়ার আরেকটি দেশ, ভিয়েতনাম। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিকেএমইএ বলছে, কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে এনবিআর কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে দেশের প্রধান রফতানি খাত নিয়ে সরকার-উদ্যোক্তা, যৌথ কর্মপরিকল্পনা সাজানোর তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

ক্রেতার পরিবর্তনের ফলে রুচির সাথে পাল্লা দিতে উদ্যোক্তারা যখন নিজেদের উজাড় করছেন ফাস্ট ফ্যাশনের প্রতিযোগিতায়, তখন স্মার্ট ও সাসটেইনেবলের একটি সমন্বিত চাহিদায় বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। বৈশ্বিক প্রবণতা, আরাম ও টেকসই বিবেচনা, বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধায় তৈরি পোশাক খাতে পলিয়েস্টার, নাইলন, ভিসকোসের মতো কৃত্রিম তন্তুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘ম্যানমেড ফাইবারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সে বাজারে অংশ নিতে পারছি না এখনো।’

আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে তৈরি পোশাকের বিশ্ব বাজারে চীন ও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা, যা এখন মোট হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান বিশ্বে ম্যানমেইড ফাইবারের তৈরি স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাথলিজার ও আউটডোর পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। যদিও ভিয়েতনামের মনোযোগ বেশি থাকলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, ‘আমরা আসলে ম্যানমেইড ফাইবারে যেতে পারছি না, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। আমাদের মনোবল ভেঙে ফেলছে। এসব জটিলতার জন্য নতুন জেনারেশন আসছে না। পুরনো যারা ব্যবসা করছেন, তারা আর সেটাকে বাড়াতে চাচ্ছেন না।’

অবশ্য বাড়তি বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব বোর্ডের হয়রানি, আমদানি নীতি, এবং ব্যাংক ঋণে সুদের ভোগান্তি যোগ হওয়ায় উদ্যোক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন না বলে দাবি করেছে বিকেএমইএ।

আরও পড়ুন: নতুন মেয়াদে সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি করল চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও ফিফা

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘আমাদের কোনো বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নেই। আমরা যে নতুন একটি আইটেম নিয়ে আসবো, সে সুযোগও দেয়া হয়নি। বিশেষ করে এনবিআর এর আরও, এও এবং ইন্সপেক্টর র‌্যাংকের লোকেরা চায় না যে, আমরা ব্যবসা করি।’

যদি দেশের প্রধান রফতানি খাত মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে তা রিজার্ভ, আমদানি খরচ ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় চাপ সৃষ্টি করবে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য পিছিয়ে পড়া বাজার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের মিলিতভাবে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ মন্তব্য করেন, ‘রফতানিকারকদের খরচ কোথায় বেড়ে যাচ্ছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, গ্যাস সংকট। এসব নিয়ে বসে কার্যকর সমাধানের দিকে যেতে হবে, যাতে তাদের উৎপাদন খরচ না বাড়ে।’

চলতি বছরে ভিয়েতনামী পোশাকের দাপটে একক সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে চমক, ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কানাডাপ্রবাসী এলুমি

অটেক্সার হিসাবে গেল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ২.৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২৭০ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি করেছে ভিয়েতনাম। একই সময়ে বাংলাদেশ করেছে ১৩৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার মূল্যের পোশাক, যা গত বছরের তুলনায় ৮.৫৩ শতাংশ কম।

পোশাকের দাম ও মুনাফা বেশি। অধিক টেকসই। সহজে কুঁচকায় না। আধুনিক জীবনযাত্রায় স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাথলিজার ও আউটডোর পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। সুতির কাপড় পরিবেশবান্ধব, তবে আধুনিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিয়েস্টারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচারে ১৩ বছর বিলম্ব, প্রসিকিউশনের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১০:০৭ এম


রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচারে ১৩ বছর বিলম্ব, প্রসিকিউশনের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ

রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘ ১৩ বছর বিলম্বের পর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে জানান, 'দেশের অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনার এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলছে।'

তিনি এও বলেন, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মামলাটি অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের পর বিচার কার্যক্রমে গতি আসে। এরপর একাধিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মর্তুজা মোহাম্মদ আন্তিক এক সাক্ষাৎকারে বাসস’কে বলেন, 'মামলাটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।'

তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে ৫৯৪ জন সাক্ষীর দীর্ঘ তালিকা তৈরি হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মামলার বাদী, সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান, একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন প্রকৌশলী রয়েছেন।

আসামীদের মধ্যে তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ করসহ প্রধান তদন্ত কর্মকর্তাদের আদালতে তলব করা হয়েছে। তাকে আগামী ২১ জুন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, নির্দেশ অমান্য হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট) জারি হতে পারে। অপর তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শহীন শাহ পারভেজ অসুস্থতার কারণে সময় চেয়েছেন।

প্রসিকিউশন আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে। এর ফলে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের আটতলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে, যার ফলে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অধিকাংশই পোশাকশ্রমিক ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৩ এপ্রিল ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরদিন সকালে চারটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ২৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে জেনারেটর চালু হওয়ার পর পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে।

ঘটনার পরদিন ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, ১৩ জন পলাতক এবং ২৫ জন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আজিজুলের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১০:১০ এম


কুড়িগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আজিজুলের বিরুদ্ধে

 

০৩.০৫.২:কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪০ বছর বয়সী যুবক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দাসিযারছড়ার কামালপুর এলাকায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক আজিজুল হককে ১নং আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় ভুক্তভোগী ওই নারী (৩৪) একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১নং বিবাদী আজিজুল হক চার বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলতে শুরু করে। মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রেমের সুবাদে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ফুসলিয়ে বাড়ির লোকজনের অগোচরে নিজ বাড়ীতে ধর্ষণ করে। গত ১২/০৩/২৬ইং রাত ১০টার সময় ১নং বিবাদী বাড়ির লোকজনের অগোচরে ভুক্তভোগীর শোবার ঘরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ১নং বিবাদী ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ভিকটিম ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করতে গেলে, ১নং বিবাদী ভিকটিমের মোবাইল নম্বর ব্লক লিস্টে রাখে। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী ১নং বিবাদীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ২১/০৪/২৬ইং তারিখ রাত ৮টায় ১নং বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে ১নং বিবাদীকে বিয়ে করার জন্য বলেন।

এ সময় ২নং বিবাদী আবুল কালাম (৫৮), পিতা মৃত আব্দুল করিম ব্যাপারী, ৩নং বিবাদী আনজু বেগম (৫০), স্বামী আবুল কালাম, ৪নং বিবাদী মুন্নি বেগম (৩৫), স্বামী আজিজুল হক, ৫নং বিবাদী জাকারিয়া (৫০), পিতা আফছার আলী, ৬নং বিবাদী এনামুল হক (৪৫), পিতা অজ্ঞাত, ৭নং বিবাদী লিটন কাজী (৪০), পিতা মৃত মজিবর রহমান, ৮নং বিবাদী রাশিদুল ইসলাম (৩৮), পিতা হাছেন আলী, সর্ব সাং চন্দ্রখানা, কাজীটারী (নাওডাঙ্গা পুলের পাড় সংলগ্ন), থানা ফুলবাড়ী, জেলা কুড়িগ্রাম, সবাই বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং তাদের বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। ভিকটিম রাজী না হলে, ২-৮ নং বিবাদীগণ ভিকটিমকে এলোপাতাড়িভাবে কিল ঘুষি মেরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিম তার ভাই ইয়াছিন আলীকে নিয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৮/৭২, তাং-২৬/০৪/২৬ইং।

ধর্ষিতা নারী বলেন, "দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রেখে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১নং বিবাদী আজিজুল হক আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। আমি তাকে বিয়ের কথা বললেও সে আমাকে মেনে নেয়নি। পরে আমি বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি ওই আজিজুলকেই বিয়ে করে সংসার করতে চাই।"

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছিও। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ বছরের দুর্ভোগের অবসান, সাপলেজায় কালভার্ট নির্মাণে স্বস্তি ফিরল ৫০০ মানুষের জীবনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবদ্দুস কুদ্দুস খান, মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর)

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


২০ বছরের দুর্ভোগের অবসান, সাপলেজায় কালভার্ট নির্মাণে স্বস্তি ফিরল ৫০০ মানুষের জীবনে

দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলতে থাকা ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে pিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের ওপর অবশেষে নির্মিত হলো নতুন কালভার্ট। ফলে এলাকাটির প্রায় ৫০০ মানুষের চলাচলে এসেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সাপলেজা গ্রামের ওই খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ছিল। এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবন ও জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো এলাকাবাসীদের। বিশেষত শিক্ষার্থী, নারী এবং বয়স্কদের জন্য এটি হয়ে উঠেছিল একটি চরম দুর্ভোগের উৎস। প্রায় সময় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়াতেও ব্যাঘাত ঘটত। এই দীর্ঘ দিন ধরে চলা সমস্যা অবশেষে নজরে আসে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেখানে একটি আধুনিক ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। তার এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এলাকাবাসীদের মতে, “প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা যে কষ্ট ভোগ করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন আমরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” এটি শুধুমাত্র কালভার্ট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, প্রকল্প কর্মকর্তা তার তত্ত্বাবধানে সাপলেজা ইউনিয়নে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজও বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে — ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, বাজারে টিনশেড (টলশেড), ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ঘাটলা নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার এবং বাবুরহাটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ বছরেও যেসব উন্নয়ন হয়নি, সেগুলো অল্প সময়েই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। ফলস্বরূপ, পুরো ইউনিয়নের চেহারায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। নতুন নতুন উন্নয়নের ছোঁয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে এক নতুন আশাবাদ এবং স্বপ্ন দেখার সাহস। এ ক্ষেত্রে মঠবাড়ীয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তারের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার কথাও স্থানীয়রা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মেনে নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, তার উৎসাহ ও প্রশাসনিক সহায়তায় উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো গতি পেয়েছে। সাপলেজা ইউনিয়নের জনগণ মনে করছেন, যদি এমন জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাস্তবতা স্বীকার করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে : রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


বাস্তবতা স্বীকার করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে : রুবিও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ইরানকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে আসতে হবে। আজ মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চেষ্টা করছে ইরান কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, তা বোঝার। সেই অনুযায়ী আলোচনার পথ তৈরি করা হবে।

রুবিও বলেন, আলোচনা শুরুতেই বড় কোনো বিস্তারিত চুক্তি হতে না পারে, বরং কিছু সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হওয়া আগে উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার বিষয় ও ইরান কী ধরনের ছাড় দিতে পারে, তা স্পষ্ট হতে। তার মতে, ইরান যদি বাস্তবতা মেনে নিয়ে আলোচনায় আসে, তাহলে এটি শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।

রুবিও আরও বলেন, ‘আমাদেরকে যে লিখিত আকারে একটি চুক্তি করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান বের করতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে তারা কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক এবং আলোচনা শুরুর আগে তারা কী পরিমাণ ও কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। যাতে সেই আলোচনা সফল হয়।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তিনি বলেন, ইরানের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই। রুবিওর মতে, ইরান সব সময় বলছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড সে কথা প্রমাণ করে না।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এমন সকল সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা তৈরি অন্তর্ভুক্ত। রুবিও বলেন, যদি কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা যেসব কাজ করে, ইরান ঠিক সেগুলোই করছে।

তিনি বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এখন ইরানের সামনে সুযোগ আছে স্পষ্ট করে দেখানোর যে তারা আসলেই পারমাণবিক অস্ত্র চায় না।

এছাড়া তিনি সতর্ক করেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যায়, তাহলে এর প্রভাব সমস্ত বিশ্বের জন্য খুবই বিপজ্জনক হবে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্বের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, যেমনটি এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় পারমাণবিক কর্মসূচি একটি বড় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমাবদ্ধ করুক। অন্যদিকে, ইরান বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার রাখে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে এবং আলোচনা অব্যাহত আছে। ট্রাম্প আরও বলেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে সকলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।

এর মধ্যে, আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব মূল্যায়ন করছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন বার্তাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া গেছে এবং তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত নিয়ে আমি এই মুহূর্তে আলোচনা করব না। কারণ এই বিষয়গুলো এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’

মুখপাত্র আলোচনা প্রক্রিয়ার অসুবিধাগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানোয় মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা সহজ নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%