প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পোষ্ট অফিসের কাজের ঠিকাদার ৫ই আগষ্ট, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ঠিকাদারের অনুপস্থিতির কারণে অদ্যাবধি অসম্পূর্ণ কাজটি বন্ধ রয়েছে। জীর্ণ পুরাতন পোষ্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নলডাঙ্গা পোষ্ট অফিসের সংস্কার কাজ গত দুই বছরে সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে অফিসের মূল রুমের দরজা ও জানালা নেই, ফলে ভবনের অভ্যন্তর খড়ি ও সাইকেল রাখার গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অফিসের পাশের একটি ছোট রুমে ৮ থেকে ১০ জন ডাককর্মী ঠাসাঠাসি করে অফিসের কাজ চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় ডাক বিভাগের কর্মীরা চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। একই সাথে, জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট অফিসটির সরকারি, বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গ্রহণ ও বিতরণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটির জীর্ণ অবস্থায় নিরাপত্তারও শঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে নলডাঙ্গা পোষ্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসের মূল প্রবেশদ্বারে দরজা ও জানালা নেই। অফিসের ভেতরে কাঠের জালানি কাঠ এবং কর্মীদের মোটর সাইকেল রাখা হয়েছে। অফিসের সংলগ্ন ১০ বাই ১০ সাইজের ছোট রুমে ৪টি টেবিল পেতে ৮ জন ডাককর্মী কাজ করছেন। এর পাশের ৬ ফুটের ছোট রুমে উপজেলা পোষ্ট মাস্টার তার দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পোষ্ট মাস্টার হাফিজুর রহমান জানান, তিনি গত এক বছর ধরে এখানে কর্মরত। কালীগঞ্জের প্রধান ডাকঘর অফিসের এই বেহাল অবস্থার কথা তিনি যোগদানের আগে থেকেই জানতেন। ভবনটি জীর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২৩ সালে সংস্কারের জন্য টেন্ডার করা হয়েছিল, এবং তখন ঝিনাইদহের এক ঠিকাদার কাজটি শুরু করেছিলেন।
পোষ্ট মাস্টার জানান, তিনি শুনেছেন যে ৫ই আগষ্টের পর থেকে ভবনের সংস্কার কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঠিকাদার এখানে আসেননি। ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের নাম সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। অপরদিকে, অফিসের এক ডাককর্মী জানান, ঠিকাদার ছিলেন একজন আওয়ামী সরকারের আশির্বাদপুষ্ট ব্যক্তি, যার কারণে ৫ই আগষ্টের পর কাজ বন্ধ রেখে তিনি পালিয়ে গেছেন।
ঝিনাইদহ প্রধান ডাকঘর অফিসের পোষ্ট মাস্টার রিয়াজুল হক জানান, তিনি কয়েক মাস আগে এ অফিসে যোগদান করেছেন। কালীগঞ্জ প্রধান পোষ্ট অফিসের সংস্কার কাজ কেন বন্ধ রয়েছে বা ঠিকাদার কে ছিলেন, সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারছেন না। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে কালীগঞ্জ পোষ্ট অফিসের মতো অনেক উপজেলার পোষ্ট অফিসের সংস্কার কাজও বন্ধ রয়েছে। জীর্ণ পুরাতন পোষ্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের সাব-ইঞ্জিনিয়ার তাইবুর রহমান বলেন, তিন মাস আগে তিনি কালীগঞ্জ প্রধান পোষ্ট অফিস ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালে ভবন সংস্কারের টেন্ডার হয়েছিল, তবে কাজের ব্যয় বরাদ্দ বা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে পারেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ঠিকাদার পালিয়েছে বা কাজ বন্ধের বিষয়টি প্রথমবারের মতো তার কাছে এসেছে। পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা কখনো সমস্যাটি তার কাছে নিয়ে আসেননি। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন