প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা নৌবহরের অংশ থাকা আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতালীয় প্রসিকিউটররা ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে তদন্তের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সোমবার এক একটি বিচার বিভাগীয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি ইতালীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোকে নিশ্চিত করেছে, আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে থাকা ইতালীয় নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি অপহরণের সন্দেহে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি অভিযোগ দায়েরের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়, তবে প্রসিকিউটররা বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারেন।
ইতালীয় তদন্তের প্রেক্ষিতে বেন-গভির এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি কোনো তদন্ত থেকে পিছিয়ে আসব না এবং আমাদের যোদ্ধাদের পাশে গর্বের সঙ্গে দাঁড়াব।’
ইতালির ভৌগোলিক আকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বুটের দেশটি এখন ফ্লিপ-ফ্লপের দেশে পরিণত হয়েছে।’ তার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।
মঙ্গলবার এক্স-এ তাজানি লিখেছেন, ‘ইতালি সম্পর্কে বেন-গ্ভির যা বলেছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো কোনো ভাষা আমার কাছে নেই। অগ্রহণযোগ্য কথা, যা আমরা প্রেরকের কাছে ফেরত পাঠাচ্ছি। এগুলো একজন মন্ত্রীর জন্য শোভন নয়।’
ফ্লোটিলার কর্মীরা অপমানিত
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েল একটি সাহায্যবাহী নৌবহর আটক করার পর, মে মাসের শেষের দিকে মন্ত্রী বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায় আটক গাজার কর্মীরা হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এর পর থেকে ইসরায়েল ও বেন-গভির ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি পুলিশের হাতে আটক হওয়া ৪৩০ জন কর্মীর মধ্যে ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও ছিলেন। এক্স-এ বেন-গভিরের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর কর্মকর্তারা একজন কর্মীকে মাটিতে শুইয়ে দেন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার কর্মীদের সঙ্গে এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে এবং ব্যাখ্যার জন্য ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এরপর ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতে বলেছে, অন্যদিকে ফ্রান্স বেন-গভিরকে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নৌবহরের আয়োজকরা বলছেন, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙাই তাদের লক্ষ্য ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন