প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণের ভিডিওতে নিজের তৈরি কালজয়ী গান ব্যবহারের ঘটনায় পপ তারকা কেটি পেরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউসের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেটি পেরি বলেন, এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত এবং মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়, যেখানে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেটি পেরির জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ভিডিওতে সামরিক হামলার নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয় এবং গানটির ‘বুম, বুম, বুম’ অংশ সঙ্গে বিস্ফোরণের দৃশ্যগুলিকে মিলিয়ে দেওয়া হয়। নিচে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে।’
কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে এবং গানের আসল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে সংঘাত ছড়ানোর কাজে এটি ব্যবহার করার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক এই পপ তারকা নিজের চরম আপত্তির কথা সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শনিবার সকালে প্রকাশিত এক আবেগঘন বার্তায় কেটি পেরি লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে সামরিক হামলার ভিডিওর সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাক হিসেবে ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গানটি ব্যবহার হতে দেখে আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত এবং মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ। আমি এই ব্যবহারের কোনো অনুমতি দিইনি, আমার কাছে অনুমতি চাওয়াও হয়নি এবং আমি কোনোভাবেই এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না।
নিজের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও তা কীভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে তা তুলে ধরে কেটি পেরি আরও যোগ করেন, মানুষ যখন তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তাদের মনের ভেতরের শক্তি, নিরাময় এবং আশার সংগীত হিসেবে আমি এই গানটি লিখেছিলাম। স্ব-মর্যাদা ও অনুপ্রেরণামূলক একটি বার্তাকে ধ্বংস ও সহিংসতার জন্য এভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা আমার গানের মূল চেতনার পুরোপুরি লঙ্ঘন। আমার সংগীত মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি আনার জন্য, যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলার উদযাপন করার জন্য নয়।
হোয়াইট হাউসের এই বিতর্কিত পোস্টটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের সঙ্গে একদিকে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড নিয়মিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, সামুদ্রিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হলেও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না, তবুও অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ উপস্থিতি বজায় রয়েছে। এমন এক যুদ্ধংদেহী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমে পপ গান ব্যবহার করে এমন আক্রমণাত্মক প্রচারণার বিষয়টি সর্বস্তরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচরণায় শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর ঘটনা কেটি পেরির ক্ষেত্রে প্রথম নয়। এর আগে গত জুন মাসেই মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃক সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার ও হাতকড়া পরানোর দৃশ্য-সংবলিত একটি টিকটক ভিডিওতে ২০২৪ সালের ‘বাই’ গানটি ব্যবহার করায় হোয়াইট হাউসের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এ ছাড়াও সাবরিনা কার্পেন্টার, অলভিয়া রড্রিগো, সেলিন ডিওন, নীল ইয়ং এবং দ্য রোলিং স্টোনসের মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীরাও বারবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক সভা ও ভিডিওতে তাদের অমতে গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইনি ও নৈতিক দিক তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছেন।
সূত্র: ভ্যারাইটি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন