প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, রূপপুর চালুর সময় সম্পর্কে এখনও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১০ টাকা হতে পারে, এমন তথ্য জানিয়েছেন কয়েকজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে।
পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটি মনে করছে, রূপপুরের বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ দশমিক ৭৫ টাকায় পাওয়া যাবে। ওই কমিটি এই মেগা প্রকল্পের জন্য কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ (প্রতি মাসে বিনিয়োগের অংশ পরিশোধ) দেওয়ার পক্ষে নয়। তবে গত ৯ মাসে রূপপুর প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি জানাতে পারেনি।
একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, রূপপুর কেন্দ্রের আয়ু ৮০ বছর ধরে সুপারিশ করেছে রোসাটম। কিন্তু পিডিবি ৬০ বছর আয়ু বা উৎপাদনের মেয়াদকাল ধরে হিসাব করে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এই কেন্দ্র থেকে ৭ সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হিসাবে বেশ কিছু খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খাত যোগ হবে। ফলে প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকার নিচে আসবে না। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি পিপিএ সই হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, পিডিবি প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ৭ সেন্ট ধরেছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। যদিও এই অর্থ ঋণের ৪ শতাংশ সুদসহ পরিশোধ করতে সরকারকে ২০ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। রূপপুর কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এই ইউনিটের উৎপাদন দক্ষতা ৯০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রতিবছর এই কেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় ২০ কোটি ডলার হিসেবে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রূপপুর থেকে আসল লাভ পাওয়া যাবে ২০ বছর পর। তখন ঋণ শোধের পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ সেন্ট হতে পারে। তবে সবকিছু সরকারের দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে।
ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশনের তথ্যমতে, সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পড়ছে ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি। সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রে খরচ পড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। তবে ডলারের দাম বাড়লে এই খরচ আরও বাড়বে।
রূপপুর পৌঁছেছে আরেকটি চালান
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) আরেকটি চালান এসেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে সেগুলো ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে জ্বালানি বুঝে নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন