প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট জাতীয় ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এক দশকেরও কম সময়ে দেশে মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়া নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় এবং ভবিষ্যতে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।
জাতীয় ঋণ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ নয়; তবে সরকারের ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকলে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে গেলে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতাদের অর্থ সংগ্রহের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বাড়ি ও গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হারও বাড়ার সম্ভবনা থাকে।
বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ট্রেজারি ঋণ। আর প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে ঋণ।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তখন দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে গেছে।
কেন জাতীয় ঋণ বাড়ছে? সরকারের ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে জাতীয় ঋণ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। গত এক দশকে বাজেট ঘাটতি, মহামারি মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকারের ধার নেওয়ার প্রয়োজন বেড়ে গেছে।
বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। চলতি আগস্টে ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাড়ি কেনার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদের হার নির্ধারণে সরকারি বন্ডের ফলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ঋণের চাপ বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাতীয় ঋণের চাপ দীর্ঘমেয়াদীভাবে অব্যাহত থাকলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়বে, যা শিক্ষা, অবকাঠামোসহ অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া সরকারের অতিরিক্ত ঋণ বেসরকারি খাতে ঋণের খরচও বাড়াতে পারে, যা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে, শুধু ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের পরিমাণ দেখে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। অর্থনীতিবিদেরা দেশের মোট অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত এবং জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণের পরিমাণও বিবেচনা করেন।
জাতীয় ঋণের চাপ কমানোর জন্য সরকারের সামনে ব্যয় কমানো, রাজস্ব বাড়ানো অথবা দুইয়ের সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি বন্ডের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতির মূল কারণ সমাধান না করা পর্যন্ত শুধু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন