প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক সময় রাজশাহীর রেশম ছিল আভিজাত্য, সৌন্দর্য ও বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচয়। তবে সময়ের সঙ্গে নানা সংকটে সেই শিল্পের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে গবেষণা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগের ফলে রাজশাহীর রেশম আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।
বিশেষ করে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি রেশম রপ্তানির সম্ভাবনা এ শিল্পের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে রেশম চাষ গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। সম্মেলনের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ রেশম কারখানা এবং রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।
সম্মেলনে চীনের বাজারে রেশম রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার মাঠপর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রেশম চাষের পদ্ধতি উন্নয়ন, তুঁত চাষের প্রসার ও রেশম সুতার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজশাহীর রেশম শুধু একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের একটি অংশ। সরকার আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ শিল্পকারখানা পুনঃচালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা ছাড়াও বাজারের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশল নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীর রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য মার্কেটিং পলিসির উন্নয়নের কাজও চলছে। চীনের বাজার বাংলাদেশের রেশম শিল্পের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
বিশ্বের অন্যতম বড় রেশম উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ চীনের বাজারে বাংলাদেশের রেশমের আলাদা অবস্থান গড়ে তুলতে পারলে তার সুফল সরাসরি রাজশাহীর রেশম চাষি, তাঁতি ও উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে। মানসম্মত রেশম সুতা ও কাপড় উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক নকশা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন কৌশল গ্রহণ করা গেলে ‘রাজশাহী সিল্ক’ আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সম্মেলনে রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘রাজশাহী সিল্ক বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এ শিল্পের বিকাশে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। রাজশাহীর রেশম শিল্পের উৎপাদনের চিত্রও আশার খবর দিচ্ছে।
২০১৮ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারখানায় উৎপাদিত মোট ৫৯ হাজার ৪৬৮ মিটার রেশম কাপড় তৈরি হয়েছে। কারখানার নিজস্ব শোরুমে ঐতিহ্যবাহী গরদ শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড় ও বলাকা সিল্কসহ বিভিন্ন উন্নতমানের রেশম পণ্য সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ঝেজিয়াং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ও ভাইস ডিন অধ্যাপক জু কিউজি এবং চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প উদ্যোক্তা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরাত জাহান নিপা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন। সম্মেলনটির আয়োজন করে চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্র এবং সহযোগিতা করে বাংলাদেশ রেশম চাষ উন্নয়ন বোর্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন