প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গৃহকর্মী মীনা হালদার (বাঁয়ে) ও ডা. মনীশ গুপ্ত (ডানে)
দিল্লির অভিজাত এলাকা মাউন্ট কৈলাশে, ১৫ বছরের বিশ্বস্ত গৃহকর্মী মীনা হালদারকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীশ গুপ্ত। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কালাজাদুর সন্দেহ, দীর্ঘ সময়ের পারিবারিক বিবাদ এবং চিকিৎসকের তীব্র মানসিক অবসাদ কাজ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে, ডা. মনীশের স্ত্রী বাসা থেকে ক্লিনিকের উদ্দেশে বের হওয়ার পর, গৃহকর্মী মীনা কাপড় ধুয়ে তা শুকাতে বাড়ির ছাদে চলে যান। এ সময় ডা. মনীশ তাকে অনুসরণ করেন। পরে সেখানে এসে তিনি একটি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে, গৃহকর্মী মীনাকে হত্যা করেন।
মীনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ছাদের সিঁড়ির কাছ থেকে রক্তে ভেজা মরদেহ উদ্ধার করে। পাশাপাশি ওখানে বসে থাকা ডা. মনীশ গুপ্তকে রক্তাক্ত ব্যাট ও ছুরিসহ গ্রেফতার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ডা. মনীশ জানান, মীনা ঘরে কালাজাদুর শক্তি নিয়ে আসছিল। এর ফলে তার ছেলের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মীনাকে কাজ থেকে ছাঁটাই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এতে রাজি হননি, ফলে তার মনে চরম ক্ষোভ জন্ম নেয়।
পারিবারিক সূত্র ও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, ডা. মনীশ গুপ্ত গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র বিষণ্নতা এবং অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারের (ওসিডি) মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। যদিও ১৯৯৯ সালে জয়পুরের সাওয়া মানসিং মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং পরবর্তী সময়ে এইমস হাসপাতাল থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া এই চিকিৎসক প্রতিবেশীদের কাছে একজন শান্ত ও চমৎকার মানুষ হিসেবেই পরিচিত।
নিহত মীনা হালদারও এলাকায় অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এই মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দিল্লির গৃহকর্মী সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী ডা. মনীশের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন।
বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, ডা. মনীশের মানসিক স্বাস্থ্য ও ওষুধের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে।
তথ্যসূত্র : রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন