প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে নতুন একটি আদেশ আজ, বুধবার জারি করা হবে।
আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দ্বারা।
একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা, রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। বিইআরসি গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত করেছিল, যেখানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিইউবো), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবিপিএলসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়েছে। ওই প্রস্তাবের বিষয়ে কমিশন আগামী প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নতুন এই ট্যারিফ জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
তবে এখানে একটি স্বস্তির খবর হচ্ছে, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরিতে আপতাতভাবে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা আগের মতোই একই সুবিধা পাবেন।
বিইআরসির একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ঈদের ছুটির আগেই মূল্য সমন্বয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি রয়েছে। জুন মাস থেকেই নতুন মূল্যহার কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে করা শর্তের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে, দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই প্রসঙ্গেই বিইআরসির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল বিইআরসি দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। কমিশন এই সুপারিশ গ্রহণ করবে বলে জানা যাচ্ছে।
বিইআরসির একজন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানাচ্ছেন, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ আসবে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন