প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশীয় ছোট মাছ পরিষ্কার ও প্রস্তুত করার ঝামেলা ছাড়াই বর্তমানে কুড়িগ্রামের মানুষ সরাসরি রান্নার জন্য মাছ কিনতে পারছেন। জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘রেডি টু কুক ফিস’ বা রান্না উপযোগী মাছ বিক্রয়ের কার্যক্রম। এ উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা রেলস্টেশন এলাকায় ‘জান্নাতি ফ্রেশ অ্যান্ড ফ্রোজেন মৎস্য পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পেয়ারা বেগম। এখানে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছগুলো পরিষ্কার, কাটা-বাছাই ও ধোয়ার পর স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্যাকেটজাত করে হিমায়িত অবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে।
দোকানটিতে মলা, দারকিনা, পুটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, চাপিলা, খলিসা, টাকিসহ নানা ধরনের দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মাছগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এছাড়াও অনলাইন অর্ডার ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে। মাছের ধরন ও ওজনভেদে প্রতি কেজির দাম ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তা বাবলু মিয়া জানান, আগে তিনি খাদ্য গুদামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বয়সের কারণে ভারী কাজ করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ায় বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দুই মাস আগে এই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে।
পেয়ারা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন বাজার থেকে মাছ সংগ্রহ করে সেগুলো পরিষ্কার ও প্রস্তুত করা হয়। সীমিত লাভে বাজারদরেই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে এবং প্রতিদিনই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
দেশী মাছ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, দেশী জাতের মাছ এখন অহরহ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে কর্মব্যস্ত জীবনের কারণে ছোট মাছ পরিষ্কার ও প্রস্তুত করতে সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেকেই দেশীয় মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান না। ফলে, স্বাদ ও পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও এসব মাছ অনেক সময় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। অদূর ভবিষ্যতে বাজারে ‘রেডি টু কুক ফিস’ এর মাধ্যমে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন কোনো ঝামেলা ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত মাছ কিনে সরাসরি রান্না করা সম্ভব।
পুষ্টি আপা নামে পরিচিত এক ব্যক্তি, যিনি দিনাজপুরের বাসিন্দা, জানান, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ। বিশেষ করে দেশীয় ছোট মাছ ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন, ফসফরাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের অভিমত, বাজারে বড় মাছ কাটার ব্যবস্থা থাকলেও ছোট মাছ প্রস্তুত করে বিক্রির তেমন সুযোগ নেই। এ কারণে রান্না উপযোগী ছোট মাছের বাজার তৈরি হলে একদিকে ক্রেতারা সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে নারীদের কর্মসংস্থান ও মৎস্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।
আরডিআরএস বাংলাদেশের মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ চালু হলে ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় মৎস্য বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন