প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব ও প্রাণহানি ঠেকাতে ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব ও প্রাণহানি ঠেকাতে আজ সোমবার দুপুরে কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দাহাপাড়া এলাকায় পাহাড়ি রাস্তার পাশে এই সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রকল্প ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এই জনপদের মানুষ বন্যহাতির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায়শই সীমান্ত পেরিয়ে ১৭ থেকে ৩০টি বন্যহাতির দল লোকালয়ে নেমে এসে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।
বন্যহাতির দল কৃষকদের চাষকৃত বোরো ধানের খেত, আম-কাঁঠাল এবং কলার বাগান নষ্ট করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ঘর-বাড়ি ভেঙে ফেলে। হাতির আক্রমণে এ এলাকায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ গত ৫ মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভবানিপুর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে পার্থ রাংসা নামের এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হন।
এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডেপুটি স্পিকার সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের নির্দেশ দেন।
আজ এ অনুষ্ঠানে নিহত পার্থ রাংসার বাবা লিপসন নকরেক সোলার লাইট স্থাপনের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিসাম বলেন, "হাতির আক্রমণে যুবকের মৃত্যুর পর আমাদের প্রিয় নেতা ডেপুটি স্পিকার মহোদয় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের উদ্যোগ নেন। আজ আমরা ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট পেয়েছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আলোর কারণে হাতি সাধারণত লোকালয়ে প্রবেশ করতে ভয় পায়। তবে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকার জন্য এটি যথেষ্ট নয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও লাইট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলী জানান, "পাঁকা ধান ও কাঁঠাল পাকার মৌসুমে অত্র অঞ্চলে বন্যহাতির আক্রমণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন রাতে হাতির দল এসে ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।"
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সোলার লাইটগুলো স্থাপন হলে অত্র এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবেন এবং হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
লাইট স্থাপন শেষে বন্যহাতির উপদ্রব থেকে রক্ষা ও সীমান্ত এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কামনায় সকলেই একটি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন