প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর চেয়ে শিক্ষককে ‘বাবা’ সম্বোধন করে আবেদন জানিয়েছে।
এই উত্তরপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সেখানে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। ঘটনাটি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক উত্তরপত্রটির ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে শিক্ষকের মন্তব্য, “আমার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর অবস্থা দেখুন।” পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত উত্তরপত্রে দেখা গিয়েছে, শিক্ষার্থী প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে অসংলগ্ন ও ভুল বানানে বিভিন্ন বাক্য লিখেছে।
এক পর্যায়ে নম্বর পাওয়ার আশায় সে শিক্ষককে বাবা সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এই উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।
কেউ শিক্ষার্থীর ভাষাগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন যে, এটি ব্যক্তি নয় বরং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানের প্রতিফলন।
হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম. হাসান মন্তব্য করেছেন, “একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এমন ঘটনা উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বলেছেন, “উত্তরপত্রটি শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছি।”
তিনি জানান, “কাউকে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, “কোনো একটি উত্তরপত্রকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বিচার করা সমীচীন নয়।”
তবে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, পাঠদানের মান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখার দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন