অভিযোগ রয়েছে, বিএফডিসি অফিসের সরকারি মিটার থেকে অবৈধভাবে লাইন দিয়ে রাত দিনে মিলে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ দেয়া হয়। প্রতিটি অটোভ্যান থেকে মাসে ১ হাজার থেকে ১৫ শত টাকা করে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশতাধিক মাছের আড়ৎ রয়েছে। প্রতিটি আড়তে একটি করে সাব মিটার রয়েছে। এসব সাব মিটার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বানিজ্যিক রেটে বিল নেওয়া হয়।
অথচ বিএফডিসি মার্কেটটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ বিল নেয়া হয়। আর এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান চার্জের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে গত তিন বছর ধরে।
স্থানীয় ও বিএফডিসি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে ১৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে বিএফডিসি মার্কেটে। অথচ অটোভ্যান ও সাব মিটার থেকে মাসে প্রায় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত এসব টাকার নেই কোন রশিদ কিংবা হিসাব। ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন মার্কেটের শুরু থেকেই চার্জ বানিজ্য চলে আসছে। এ থেকে ৫ বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গভীর রাতে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিএফডিসি মার্কেটে ৩৫ থেকে ৪০ টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে গিয়েও দেখা গেছে ১৫-২০টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া রয়েছে।
মার্কেটের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহ্নত ৬০-৭০ টি অটোভ্যান দিন রাতে চার্জ দেয়া হয়। অটোভ্যান চার্জের টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে ম্যানেজার, হিসাব রক্ষক সহ কর্মকর্তা ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে।
অটোভ্যান চার্জ বানিজ্য, সাব মিটার বানিজ্যসহ আড়তগুলোর রাজস্বে শুভঙ্করের ফাঁকিসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয় জানতে চাইলে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান বানিজ্যের কথা স্বীকার করলেও এবিষয়ে তিনি ডকুমেন্টারি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার সূযোগ করে দিয়েছেন। এ টাকা সরকারি খাতে জমা হয় কিনা এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পেরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ফোন দিয়ে তার অফিসে জড়ো করে। প্রথমে বিএফডিসি মার্কেটের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন, এর কিছুক্ষণ পরে আসে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সুলতান মুসুল্লি, লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেচ্ছাসেবক দলের মহিপুর থানার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিলন, আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ট্রলিং বোট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কাজীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
এসব ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বিএফডিসি মার্কেটের অন্যান্য কর্মকর্তারা ট্রলিংয়ের মাছ টানতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে উস্কানি দেয়া হয়। তাদেরকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। তবে আগত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেকেই তাতে সাড়া দেননি।
এসময় বিএনপির সভাপতি গনমাধ্যম কর্মী দের বলেন, ম্যানেজার অটোভ্যান চার্জ দিয়ে সরকারি বিল দিয়ে যা থাকে তাতে ওনার পকেট খরচ চলে।
ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম তার নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধামাচাপা দিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোরের কাগজের কুয়াকাটা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, তার সহযোগী দৈনিক তৃতীয় মাত্রার কুয়াকাটা প্রতিনিধি রুমী শরীফকে মব সৃষ্টি করে হেনস্তার চেস্টা করে ব্যর্থ হন।
বিএফডিসি মার্কেটের আরেকটি সুত্র জানায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশত আড়ৎ রয়েছে। এসব আড়ৎ গুলোতে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে নিয়ে এসে এখানে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। গভীর সমুদ্রের কোন কোন ট্রলারে দেড়শো থেকে দুই'শ মন ইলিশ নিয়ে এসে আড়ৎ এ ৩০-৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এসব মাছ থেকে আসা সরকারি রাজস্বের হিসাবেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। দেড়শো মন ইলিশ বিক্রির বড় দাগের মাছের রাজস্বের হিসেব নেই। আড়তদারদের সাথে সন্ধি করে নামমাত্র রাজস্ব দেখিয়ে আসছে। বড় অংশই চলে যায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে।
স্থানীয়রা জানান, আলীপুর বিএফডিসি মার্কেট ও মহিপুর মাছের আড়ৎ থেকে গত পাঁচ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মার্কেট তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণে খাতে ব্যাপক টাকা সরকারকে গচ্ছা দিতে হচ্ছে প্রতি বছর। সেখানে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিএফডিসি কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিরেকে অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ, সাব মিটার বানিজ্য এবং মাছ বেচাকেনায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা নানাভাবে লোপাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধর।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, এসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বন্ধ না হলে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি লাভের মুখ দেখবে না কখনো।
এবিষয়ে কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সম্রাট খান জানান, বিএফডিসি মার্কেটে অবৈধভাবে অটোভ্যান চার্জের বিষয়ে অবগত নন। এমনটা হয়ে থাকলে লাইন কেটে দেয়া হবে।