প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ নতুন এক মোড় নিল। সামরিক জান্তা নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশाली করার জন্য জোরপূর্বক তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে- যার ফলে একসময় আক্রমণাত্মক থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখন বাধ্য হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যেতে।
সম্প্রতি পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে অবস্থিত একটি বিদ্রোহী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া চার তরুণের অভিজ্ঞতা এই পরিস্থিতির একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। তাদের মধ্যে কেউই যুদ্ধের সঙ্গে জড়াতে চাননি। একজন পেশায় রাঁধুনি ছিলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তখন সেনারা তাকে তুলে নেয়। অন্যজনকে আটক করা হয় গভীর রাতে বিনোদন শেষে ফেরার সময়। তৃতীয়জন বন বিভাগের চাকরিজীবী এবং চতুর্থজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণদের অভিযোগ থাকে, কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই তাদেরকে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়। বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম করানো হলেও নিয়মিত সেনার কাজের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম কাজ করতেন। চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে কারেন রাজ্যের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।
একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পালানোর পথে পিপল'স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর একটি টহলের হাতে আটক হন। বর্তমানে তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গেই অবস্থান করছেন এবং দাবি করেছেন যে- এখানে তারা শত্রু নয়, বরং আপনজনের মতো আচরণ পাচ্ছেন।
যুদ্ধের নতুন কৌশল- ২০২১ সালে অং সান সু চি-এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হয়। তবে ২০২৪ সাল থেকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন যুদ্ধের গতিপথকে বদলে দিয়েছে। বিদ্রোহী কমান্ডারদের মতে, এই নীতির ফলে জান্তা বাহিনী বিপুল সংখ্যক নতুন যোদ্ধা পাচ্ছে, যা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অর্থ ও অস্ত্রের সংকটে ভুগছে বিদ্রোহীরা।
পিডিএফ এর একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে টেকসই লড়াই চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আধুনিক অস্ত্র ও কৌশলে এগিয়ে জান্তা- বিদ্রোহী নেতারা স্বীকার করছেন, অনিচ্ছায় যোগ দেওয়া সেনারাও ধীরে ধীরে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ফলে জান্তা বাহিনীর বিমান শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এখন একাধিক যুদ্ধবিমান একযোগে হামলা চালাচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তিতেও তারা এগিয়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের মধ্যস্থতায় কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় প্রতিরোধ বাহিনীর সরবরাহ লাইন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সংকটের মধ্যেও লড়াইয়ের ইচ্ছা- একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন বিদ্রোহী কমান্ডার জানিয়েছেন, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পা হারালেও তিনি আবার যুদ্ধে ফিরতে চান। তার ভাষায়, পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ নিয়েও এই হাসপাতাল পরিচালনা করছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ডা. সং। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা ও মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
যুদ্ধের মাঝেও জীবনের আলোর আঁকা- সব অন্ধকারের মধ্যে মানবতার কিছু ঝলক দেখা যায়। একই হাসপাতালে এক বিদ্রোহী দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করে একটি কন্যাশিশু। যুদ্ধের মধ্যে নবজাতকের আগমন যেন একটি টুকরো আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘সু পেয়ে’, যার অর্থ ‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’। বাবা-মায়ের স্বপ্ন হলো- একদিন যুদ্ধ শেষ হবে এবং তারা একটি শান্ত, স্বাধীন মিয়ানমারে তাদের সন্তানকে বড় করতে সক্ষম হবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন