প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে, সৌন্দর্য এবং গায়ের রং সংক্রান্ত তথাকথিত ধারণার মাপকাঠি অতিক্রম করে শুধুমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমেই বলিউডে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই নায়িকা। সংসার এবং মাতৃত্বকে ছেড়ে তিনি ফিরেছেন নিজের প্রথম ভালবাসার কাছে, অভিনয়ের জগতে।
কাজলের পরিবার বহুদিন ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মা তনুজা একজন সমর্থ জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বাবা সোমু মুখোপাধ্যায় একজন প্রযোজক-পরিচালক। মুখোপাধ্যায় পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশে তিনি বড় হয়ে উঠেছেন। কাজলের জন্য অভিনয় নতুন কোনও জগৎ ছিল না, কিন্তু ওই পরিচিত পরিবেশের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে, সৌন্দর্য এবং গায়ের রং সংক্রান্ত ধারণার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কেবলমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি বলিউডে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
১৯৯২ সালে তিনি প্রথম ছবিতে অভিনয় করেন। শুরুটা সহজ ছিল না এবং সাফল্যও তৎক্ষণাত আসেনি। তবে এক বছরের মাথায় ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। 'বাজিগর' ছবিটি তাঁকে দর্শকের মনে পৌঁছে দেয়। এরপর একের পর এক সাফল্য আসে। সেই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে 'দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে', 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়', 'গুপ্ত'— প্রতিটি ছবিতে তিনি নিজেকে নতুন নতুন চরিত্রে প্রকাশ করেছেন।
বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি শাহরুখ এবং কাজল। কাজল কখনও নিজেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রে আটকে রাখেননি। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৯৯৯ সালে তিনি অভিনেতা অজয় দেবগণকে বিয়ে করেন এবং সংসারে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। তখন থেকেই ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ তিনি কমাতে শুরু করেন। পরে কন্যা নিশা এবং পুত্র যুগ তাঁর জীবনে আগমন ঘটায় এবং মাতৃত্বের দিকে তিনি মনোনিবেশ করেন।
খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে স্বেচ্ছায় বিরতি নেওয়ার সাহস সকলের থাকে না, কিন্তু কাজল সেই ব্যতিক্রমীদের মধ্যে একজন। অভিনয় জীবনের স্বর্ণালী সময়ে তিনি সংসার এবং মাতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সঠিক সময় এলে তিনি আবার ফিরে এসেছেন অভিনয়ের কাছে, তাঁর প্রথম ভালবাসা। কাজলের জীবন শুধুমাত্র একজন সফল অভিনেত্রীর কাহিনি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের পরিচয় নতুন করে গড়ার একটি গল্প।
মা হওয়ার পর কাজলের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অবাক লাগে। কেরিয়ারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে, তখনই তিনি পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সন্তানদের বেড়ে ওঠার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চেয়েছিলেন এবং সেই কারণেই বহু কাজ থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। সঠিক সময়ে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন তিনি স্বমহিমায়। 'দিলওয়ালে' দিয়েই তাঁর বলিউডে প্রত্যাবর্তন ঘটে। এরপর বেছে বেছে চরিত্র করেছেন কাজল, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিণত চরিত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি কনটেন্ট-নির্ভর গল্পগুলোও তিনি বেছে নিয়েছেন। নারীকেন্দ্রিক চিত্রনাট্যে নিজেকে সম্পূর্ণ উদ্দীপ্ত করে তুলেছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বলিউডেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ছাপ রেখেছে। তিনি আবার অভিনয়ের গভীরতায় প্রবাহিত হয়েছেন এবং সিনেপ্রেমীরা তাঁর অভিনয়ে মগ্ন হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি বড়পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করছেন। সঞ্চালনায়ও বেশ সাবলীল কাজল। নতুন প্রজন্মের জন্য যুগের সঙ্গে নিজের অভিনয়ের ধরন তিনি প্রতিনিয়ত বদলেছেন। তাই তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়েও এখনও কাজল একজন অন্যতম সেরা নাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন