প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বদলে ফেলা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ অবশেষে আবার নিজের নাম ফিরে পেয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’টি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েক বছর পর সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ রাখা হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য প্রদানের সময় বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সেটি ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিত ছিল; যা ছিল প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির এক প্রদর্শনী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেই নাম পরিবর্তন করা হবে এবং সেটি আবারও ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে পরিচিত হবে।
এ প্রসঙ্গে, গত ১২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমপ্লেক্সটির নতুন নাম ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক কালুরঘাটস্থ ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’টি এখন থেকে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ নামে অভিহিত হবে এবং এর বিস্তারিত ঠিকানা ও জমির পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৪ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স-এর নাম পুনর্বহালের জন্য মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এই নাম পরিবর্তন করেছে। এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই এবং মন্ত্রী মহোদয় ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় তৎকালীন বিএনপির সরকার এই কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করেছিল। এখানে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী সকল স্থাপনার রেপ্লিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি চট্টগ্রামের মানুষের জন্য একটি চমৎকার বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করেছিল। কিন্তু গত বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে এটির নাম বদলে দেওয়া হয়েছিল।’
এমনকি, এরশাদ উল্লাহ এমপি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই এটিকে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবেই চেনে এবং জানে। যদিও বিগত সরকার নাম পরিবর্তন করেছিল, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এটি কখনোই ওই নামে পরিচিতি পায়নি এবং তারা সবসময় এটি জিয়া কমপ্লেক্স নামেই অভিহিত করে এসেছে।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন পর্যন্ত পার্কটি পরিচালনায় তখনকার আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের একজন সংসদ সদস্যের ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছিল। সরকার পতনের পর ওই দিন রাতে শতশত বিক্ষুব্ধ মানুষ পার্কটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং এরপর থেকে পার্কটি খুলে দেওয়া হয়নি।
চট্টগ্রামে ‘মিনি বাংলাদেশ’ :
চট্টগ্রামের মহানগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের বিপরীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৬ দশমিক ৩৭ একর পরিত্যক্ত জায়গায় ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কমপ্লেক্সটি ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য এক নজরে দর্শনীয় করার লক্ষ্যে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, লালবাগ কেল্লা, কান্তজিউ মন্দির, বড় কুঠি, ছোট সোনা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের স্মরণে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি রিভলভিং বা ঘূর্ণায়মান টাওয়ার; যেটির উপরে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। টাওয়ারটির উচ্চতা ৭১ মিটার এবং ব্যাস ৫২ মিটার। বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ কমপ্লেক্সে দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার বিষয়ে জানা সুযোগ পেতেন এবং সেই কারণেই এটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
পার্কটি নির্মাণের চুক্তি অনুযায়ী, নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি পরিচালনা করেছিল কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কমপ্লেক্সটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চসিক নতুন করে ইজারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। পরে একই বছরের নভেম্বরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্সটির ইজারা নেয় এবং সেই সময় পার্কে প্রবেশের মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যিনি সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর ভাই। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর জানানো হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইজারার চুক্তি শেষ হয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন