প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান বেপারী (৩১) নামে দুইজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর, প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে প্রেমিক না আসায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মামাতো ভাই রিয়াজ বেপারীকে ফোন করে সে।
এরপর রিয়াজ বেপারী ওই কিশোরীকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লায় সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন ১৮ অক্টোবর, সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে তার দুই বন্ধু সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারী কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন মোল্লা, ওসমান বেপারী ও রিয়াজ বেপারীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে এমন একটি বার্তা পৌঁছাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন