প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ম্যানেজার হিসেবে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রমাণ দেওয়ার পালা এখন। তবে এই যাত্রায় খানিকটা ভয় কিংবা স্নায়ুচাপ অনুভব করছেন ব্রাজিলের কোচ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচিংয়ের দায়িত্ব পরিচালনায় আনচেলত্তি এই ভয় বা স্নায়ুচাপকে দলটির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামীকাল (১৩ জুন) বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আনচেলত্তি জানালেন, মরক্কোকে কোনভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না তার দল, যারা গত বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল।
আনচেলত্তি বলেন, 'ভয় জীবনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি আপনার মনে কোনো ভয় না থাকে এবং আপনি অসতর্ক থাকেন, তবে সামনে সিংহ দেখলেও তাকে বিড়াল মনে হতে পারে। ভয় মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সবসময় সতর্ক ও মনোযোগী থাকা ভালো, যাতে দল মাঠে সেরাটা দিতে পারে এবং অপ্রত্যাশিত কোনো ধাক্কা না খায়।'
আনচেলত্তি মরক্কোর শক্তি নিয়ে বলেন, 'আধুনিক ফুটবলে এখন আর কোনো ছোট দল বলে কিছু নেই। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। প্রথম ম্যাচ থেকেই আমাদের পুরোপুরি গোছানো ফুটবল খেলতে হবে।'
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগেই শিরোপাজয়ী এবং রেকর্ড পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী আনচেলত্তির জন্য ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া এক নতুন অভিজ্ঞতা। তিনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মিশনকে অনেক দায়িত্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
আনচেলত্তির ভাষায়, 'এটা (ব্রাজিল) ফুটবলারদের চারণভূমি এবং বিশ্বের সবচেয়ে সফল দলটিকে প্রতিনিধিত্ব করা এক বিশাল গৌবের বিষয়। আমি এই সুন্দর মুহূর্তটিকে চাপ হিসেবে না নিয়ে আনন্দ ও খুশির সঙ্গে উপভোগ করতে চাই।'
চোটের কারণে ফরোয়ার্ড রদ্রিগো, এস্তেভাও এবং উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমার না থাকার পরও ব্রাজিলের কোচ আত্মবিশ্বাসী যে দল যেকোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
এদিকে, মরক্কো ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কোনো খেতাবের জন্য তার কোনো মোহ নেই। অতীতের ভুল ত্রুটি শুধরে তিনি দলকে সাফল্য এনে দিতে চান।
ভিনি বলেন, 'আমি এখানে ব্যক্তিগত কোনো ট্রফি জিততে আসিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া আমার লক্ষ্য নয়। আমার একমাত্র কাজ হলো ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে সাহায্য করা। আমরা চাই ব্রাজিলকে আবারও তার চিরচেনা শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।'
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা এখনো ভিনিসিউস ও তার সতীর্থদের মনে তাজা। তবে সেই ক্ষতকে তারা এখন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
ভিনিসিউস বলেন, 'বিশ্বকাপ অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে একদম আলাদা। গত বিশ্বকাপ আমাদের শিখিয়েছে যে ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত আমাদের শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে। এবার আমরা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন কিছু করতে চাই।'
রিয়াল মাদ্রিদে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দুইটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটো লা-লিগা জয়ী ভিনিসিউস জাতীয় দলের সাথেও এই ইতালিয়ান গুরুকে পেয়ে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, 'আনচেলত্তির অধীনে খেলা সবসময়ই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদে তিনি আমাকে যেভাবে খেলার স্বাধীনতা ও ভরসা দিয়েছিলেন, জাতীয় দলেও ঠিক সেটাই দিচ্ছেন। আমি শুধু গোল করার কথাই ভাবি না, দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। আমি কয়টি গোল করলাম তা বড় বিষয় নয়, দলের জয়টাই আসল।'
ভিনিসিউস আরও বলেন, 'কোচ সবসময় আমাদের বলেন পূর্ণ ৯০ মিনিট সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে। কারণ বিশ্বকাপে খুব ছোট ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন