প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাগুরার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ‘মানিক লাল ডোম’ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলাতক অন্যতম প্রধান আসামি লিটন (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত ১৫ জুলাই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪-এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা মেট্রোপলিটনের শাহআলী থানাধীন শাহ-আলী মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে লিটন নিজেকে আড়াল করতে দেশের বিভিন্ন মাজারে ‘শিকল সাইজি’ ছদ্মনাম ধারণ করে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার”— এই স্লোগানের মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের পাশাপাশি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সদা সচেষ্ট। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে র্যাব-৪-এর একটি দল ছদ্মবেশী খুনি লিটনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী ও আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভিকটিম মানিক লাল ডোম মাগুরা সদর থানাধীন হাসপাতালপাড়ার (ডোমপাড়া) বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে ভিকটিম তার ৯ বছর বয়সী ছেলে সানবাবুকে নিয়ে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। ৩০ জুন ভোরে শিশু সানবাবু ঘুম থেকে জেগে তার বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
পরবর্তীতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মর্গে প্রেরণ করে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এর আগে এই মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসান আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে জানায়: গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভিকটিম মানিক লালের সাথে ঝন্টু, লিটন সাইজিসহ অন্যদের বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে ২০২১ সালের ৩০ জুন রাতে আসামিরা ঘুমন্ত মানিক লালের ঘরে প্রবেশ করে এবং ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন