প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিয়ের মণ্ডপে বর এসে হাজির হলেন অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায়। বরকে দেখে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়ে মনে হয় যেন সব কিছু ভেঙে যাচ্ছে। তাঁর এমন মাতলামি দেখে সঙ্গে সঙ্গে সাহসীভাবে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণী মুসকান প্রধান। এই ঘটনাটি ২৩ জুন ঘটেছে ভারতের ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলায়। মদ্যপানের বিরুদ্ধে মুসকানের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য পরবর্তীতে জাঞ্জগির-চম্পা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বিজয় কুমার পান্ডে এই তরুণীকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন তাঁর কার্যালয়ে।
দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মুসকান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তাঁর পড়াশোনা আরও চালিয়ে যেতে চান। তাঁর বিয়ে ২৪ বছর বয়সী বর সন্তরামের সঙ্গে হওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৪টার দিকে বরযাত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কিন্তু বর এতটাই মাতাল ছিলেন যে তিনি ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। মুসকানের পরিবার জানায়, বাগদানের দিনও সন্তরাম মদ্যপ অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। তখন মুসকান সতর্ক করলে তিনি আর মদ না খাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের দিনেও একই কাণ্ড দেখে মুসকান বিয়েতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
মুসকানের এই সিদ্ধান্তের পর দুই পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে চম্পা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অশোক বৈষ্ণবের নেতৃত্বে পুলিশ একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বরযাত্রী হয়ে আসা কিছু যুবকের সঙ্গে কনেপক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন সামান্য আহত হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কনেপক্ষের বিয়ের খরচ বাবদ বরপক্ষ প্রায় ৩ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সমাজকর্মী ও নারী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসপি বিজয় পান্ডে মুসকানকে সম্মানিত করেন এবং বলেন, এ ঘটনা মদ্যপানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে এবং বিয়েতে সম্মান ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মুসকানের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন