প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেনিয়ার আকাশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান মিশেল সেনসি-কন্টুগি এবং তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহানসহ সাতজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে কেনিয়ার সাম্বুরু কাউন্টিতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কেনিয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, হেলিকপ্টারটি লইসাবার একটি বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ এলাকা থেকে এওয়াসো নিয়রো নদীর দিকে পর্যটন ভ্রমণে যাচ্ছিল। পরে মাউন্ট ওলোলোকওয়ের বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠছে। খবর পেয়ে কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা সেখানে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
নিহত ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান মিশেল সেনসি-কন্টুগির বয়স ৪৪ বছর ছিল। তিনি ২০২৪ সালে দেশের কৌশলগত গোয়েন্দা কেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইকুয়েডর সরকার। সাবেক প্রেসিডেন্ট গুইলেরমো লাসো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
হেলিকপ্টারটি ছিল ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ মডেলের, যা পরিচালনা করছিল কেনিয়ার লেডি লরি হেলিকপ্টার্স প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নিহত পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মধ্যে এনবিসি ইউনিভার্সালের সাংবাদিক হোসে আলবার্তো সুয়ারেজও ছিলেন, যিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের মাধ্যমে উল্লেখিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি তার স্মরণে এক স্মারকলিপি প্রকাশ করেছে যেখানে তাকে ‘গভীরভাবে সম্মানিত নেতা এবং প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে মিয়ামির রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী রজার দুয়ার্তের নামও উঠে এসেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন প্রতিনিধি কার্লোস আন্তোনিও জিমেনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়েছেন, তবে নিহত অপর চার মার্কিন নাগরিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটিতে ছয়জন পর্যটক এবং একজন পাইলট ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
কেনিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নান্ডি কাউন্টিতে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।
এর আগে, ২০২৪ সালে দেশটির সামরিক প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ওমন্ডি ওগোলাসহ ১১ জন আরোহী একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন, ওই ঘটনায় মাত্র দুজন বেঁচে যান। এছাড়াও, ২০২১ সালের জুনে নাইরোবির কাছে অবতরণের সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১০ সেনা নিহত হয়েছিল।
সূত্র : বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন