প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহে মাহিন নামে এক জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে বিএনপির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রানাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন নিহত রানা মিয়া। তিনি ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে ছিলেন এবং বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এদিকে, জানা গেছে, সোমবারের (১ জুন) একটি বাগবিতণ্ডার পর মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে রানা মিয়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন।
নিহতের স্বজন মাহাবুব দাবি করেছেন, তারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।
মাহাবুব গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবাব ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন তরুণ তাদের বাড়ির সামনে একটি দোকানে এলে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার বিকেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
মাহাবুবের অভিযোগ, বিকেলে মফিদুল ইসলামের ছেলে মাহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। পরে রানাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং অভিযুক্ত মাহিনের বাবা মফিদুল ইসলাম মাস্টার। তিনি বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। এটি পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি।
এ দিকে, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা বিগত নির্বাচনে তার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছেন। তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটনাটি ঘটেছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন