প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর হাতিয়া রুটে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে ক্ষমতার দাপট দেখানোর এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি মাঝনদী থেকে পুনরায় ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে শুধু নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল হান্নান মাসউদকে তুলে নেওয়ার জন্য।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে মেঘনা নদীর চেয়ারম্যান ঘাটে এই ঘটনা ঘটে। ফেরি ছাড়ার দীর্ঘ ২৩ মিনিট পর মাঝপথ থেকে সেটি ঘুরিয়ে আনার ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘাট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও বিভিন্ন মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় ফেরি ‘মহানন্দা’। ফেরিটি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর গাড়িযোগে চেয়ারম্যান ঘাটে এসে পৌঁছান এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি নদী পার হয়ে হাতিয়া যাবেন বিধায়, ফেরিটি পুনরায় ঘাটে ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ততক্ষণে ফেরিটি নদীপথে ২৩ মিনিট পার করে ফেলেছে। এমপির নির্দেশ পেয়ে মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকেই ফেরিটি ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর এমপি তার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ফেরিতে উঠলে সেটি আবার নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানিয়েছিলেন ফেরি সময়মতো ছাড়বে না। পরে আবার জানান, সাড়ে ৩টাতেই ছাড়বে। কিন্তু ফেরিটি ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর হঠাৎ দেখি সেটি আবার ঘাটে ফিরে আসছে এমপি হান্নান মাসউদকে নেওয়ার জন্য। পরে এমপি মহোদয়কে নিয়ে ফেরিটি গন্তব্যে রওনা হয়।"
এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মাঝনদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে আনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন:
এমনিতেই নদী উত্তাল, আমরা ভয়ের মধ্যে নদী পাড়ি দিচ্ছি। তার ওপর এমপি সাহেব নিজের ক্ষমতা দেখালেন। মাঝনদী থেকে ফেরি ঘুরে আসতে যে সময় লেগেছে, ততক্ষণে আমরা নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যেতাম। আবহাওয়া যদি আরও খারাপ হয়ে যেত, তবে আমাদের সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়ত এবং হাতিয়া যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যেত।"
মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরে আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফেরি ‘মহানন্দা’র মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম। তবে সময় কিছুটা কমিয়ে দাবি করে তিনি বলেন, "চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘাটে ফিরে আসে। ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু প্রটোকল বা নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, এটি সবসময়ই করা লাগে।"
অন্যদিকে, ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীন পুরো দায় চাপিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারের ওপর। তিনি বলেন, "আমি এত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান যে ঘাটে এমপি সাহেব এসেছেন, ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। আমি নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।"
একজন 'ভিআইপি'র যাতায়াতের সুবিধার্থে শত শত সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—জনগণের সেবকের জন্য সাধারণ জনগণের এভাবে ভোগান্তি পোহানো কতটা যৌক্তিক?
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন