প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজানোর মাধ্যমে তাদেরকে গুলি করে এবং অমানুষিক নির্যাতনের ফলে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ মোট আট আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার শুরুতে বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাদের আদালতে উপস্থাপন না করে টানা দুই রাত ধরে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পরে পুলিশের নির্দেশে অধীনস্থ সদস্যরা সাজানো ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক তৈরি করে ওই দুই নেতার পায়ে গুলি করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুলি করার পর আসামিরা চরম অমানবিক আচরণ করে অভিযোগকারীদের ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দেয় এবং মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান করে। এই পাশবিক নির্যাতনের কারণে ক্ষতস্থানে মারাত্মক পচন ধরায় চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত দুই নেতার পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অস্ত্র মামলাটিও আদালতে পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এই মামলার অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন কারাগারের ভিতরে রয়েছেন। তারা হলো চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ বাকি পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলো চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।
এই মামলায় অভিযুক্ত আট আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছিলেন। এরপর আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আজকের দিনটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ধার্য করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন