প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুরাসাওয়ের উচ্ছ্বাস খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার পরেও সমতায় ফিরেছিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। তখন হিউস্টনের স্টেডিয়ামে নীল জার্সিধারী সমর্থকদের আনন্দের দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জার্মানি সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ টিকতে দিল না।
কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক সমতার গোলের ১৭ মিনিট পর ইউরোপের পরাশক্তিরা আবারও এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে একটি কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেড দিয়ে গোল করেন জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। কুরাসাও গোলরক্ষকের জন্য সে শটে কোনো সুযোগ ছিল না। তখন স্কোরলাইন ২-১ হয়ে যায় এবং আবারও জার্মানি এগিয়ে যায়।
এদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানির শক্তিশালী উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ষষ্ঠ মিনিটেই তারা প্রথম আঘাত হানে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা বক্সের ভিতর থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শট দিয়ে গোল করেন। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুতে জার্মানরা স্বস্তির গোল পেয়ে যায়।
এখন, অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা কুরাসাওয়ের জন্য কঠিন রাত অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ছোট্ট দেশটির ফুটবলাররা যেন অন্যরকম একটি গল্প লিখতে প্রস্তুত হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।
জার্মানদের একের পর এক আক্রমণ সামলে কুরাসাও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। এরপর, দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি আসে।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে জার্মান রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে কুরাসাওয়ের রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেসিয়া বল পেয়েছিলেন। এরপর বক্সের ভিতর থেকে তাঁর বাঁ পায়ের শট ঠেকাতে সক্ষম হননি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। বল জালে এসে যায় এবং তৈরী হয় ইতিহাস।
এটি কেবল জার্মানির বিরুদ্ধে সমতার গোল নয়, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওয়ের প্রথম গোল। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উল্লাসে পুরো স্টেডিয়াম যেন কেঁপে ওঠে। ওই নীল জার্সিধারীদের আনন্দে ছিল বিস্ময়, আবেগ এবং স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি।
প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষের দেশ কুরাসাও এবারই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে নিজেদের নাম লিখিয়েছে রেকর্ডের পাতায়। জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোল করে তারা জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কেবল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আসেনি; লড়াইও করতে এসেছে।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ ভাগে নিকো শ্লটারবেকের হেডে কুরাসাওকে আবারও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে, ম্যাচের এই গল্পে তাদের সাহসী প্রত্যাবর্তন এবং প্রথম বিশ্বকাপ গোলের উচ্ছ্বাস বিদ্যমানভাবে একটি আলাদা জায়গা নিয়েছে। জার্মানি এগিয়ে থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার লড়াইয়ে কুরাসাও ইতোমধ্যে অগণিত নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন