প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে বাবা-মায়ের নামে দান করা জমিতে প্রস্তাবিত মাদ্রাসার সাইনবোর্ড উদ্বোধনের সময়ে হামলার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা সহ একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কড়িয়াইল এলাকায় প্রস্তাবিত 'এইচ.এম.এস.কে মেমোরিয়াল তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি মাদ্রাসা' প্রাঙ্গণে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন খান, তার বড় ভাই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিলেজ কার্গোর 'ফ্রেট ও ফরোয়ার্ডিং' ব্যবসা সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান খান (তাজ) ও তার ভাতিজা মোহাম্মদ দানিয়াল খান।
এ ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মরত বড় ভাই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আবদুর রহমান খান (তাজ) বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মো. আবদুর রহমান খান (তাজ) দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত রোববার, তিনি তার মৃত বাবা-মায়ের নামে দান করা জায়গায় প্রস্তাবিত 'এইচ.এম.এস.কে মেমোরিয়াল তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি মাদ্রাসা'র সাইনবোর্ড উত্তোলন করে উদ্বোধন করতে যান। এ সময় পূর্ব বিরোধের কারণে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (দা, লাঠি, লোহার রড, রামদা, হকিস্টিক, বল্লম) নিয়ে অভিযুক্তরা অনধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১ নং আসামি আমিন উদ্দিন খানের নির্দেশে মাহবুবুর রহমান খান সোহেল, মাসুদ খান, সোলাইমান খান এবং জান্নাতুল ফেরদৌস খান (বরকত) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন লোক আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাদ্রাসার সাইনবোর্ডটি কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে নামিয়ে ফেলে। বাধা দিতে গিয়ে মো. আবদুর রহমান খান, দানিয়াল খান এবং ছুটিতে দেশে আসা ইউএস পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল উদ্দিন খানকে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে তাদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত 'শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে' নিয়ে যান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন খান জানায়, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে গেছে— এ বিষয়ে থানায় পুলিশ বা গ্রামীণ সালিশ করলে সবাইকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।
বর্তমানে বাড়িতে বেড়াতে পড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন