প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা বলছেন সরকারকে সময় দেয়া যাবে না, তারা মূলত নিজেদের স্বার্থে এবং জনগণের বিপক্ষে কথা বলছেন। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর সরকার পরিচালনা করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ করবে। তাই জনগণের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যারা যাবে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রবল বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই দুপুরের আগে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম আগমন সরকার গঠনের পর, যা ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যারা একসময় একত্রিত হয়ে ‘আন্দোলন আন্দোলন খেলা’ খেলেছিল, তারা এখন আবার বলছে বিএনপিকে সময় দেয়া যাবে না। তারা আবারও আন্দোলন আন্দোলন খেলা শুরু করেছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের উৎস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের জবাব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা বলে টাকা কোথায় পাওয়া যাবে, তাদের উদ্দেশে উত্তর–জনগণের টাকা জনগণের জন্যই ব্যয় হবে। অতীতের মতো টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না, বরং দেশ ও জনগণের কল্যাণে সব টাকা ব্যয় করা হবে। বিএনপির সব পরিকল্পনা জনগণের কল্যাণের জন্য। এই পরিকল্পনা যারা ভেস্তে দিতে চায়, বিএনপি নয়, দেশের জনগণই তাদের রুখে দেবে।’
দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বড় ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের যেসব উপজেলায় বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেগুলোকে সরকার দ্রুতই ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে। একই সঙ্গে এসব হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে। এর ফলে তৃণমূলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পাওয়ার পর বর্তমান সরকার দেশের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশ ও জনগণের ক্ষতি হবে, আর দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়।
এদিন পাইলট প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের সব নারী চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরও ১৫২টি পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। মৌলভীবাজারের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একযোগে দেশের ২১টি জেলায় এই সেবা কার্যক্রমের ঐতিহাসিক উদ্বোধন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন