প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নানা অজুহাতে আবেদনকারীদের ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। অথচ দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে দ্রুত মিলছে পাসপোর্ট— এমন অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করেও অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দালালদের শরণাপন্ন হলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এমনকি আবেদনপত্রে বিশেষ ধরনের ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ ব্যবহার করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার ১২৩ নম্বর কুকরাইল মৌজায় ২৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়টি ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করে। জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ও বিদেশগামী মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কেন্দ্র। তবে শুরু থেকেই সেবা নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্ভোগের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাসপোর্ট গ্রাহক জানান, “আমি এক দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলাম। তারা ফরমে একটি বিশেষ চিহ্ন দিয়ে দেয়। এরপর খুব দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যাই। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই কাজ হয়ে গেছে, অন্য কোনো কাগজও লাগেনি।”
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের সীমানা ঘেঁষে এবং আশপাশের এলাকায় সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি টিনশেড দোকান। এসব দোকানে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব দোকানের অনেকগুলোই দালালদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, অফিসে প্রবেশের আগেই দালালরা আবেদনকারীদের ঘিরে ধরেন। কাগজপত্রে সমস্যা আছে কিংবা আবেদন প্রক্রিয়া জটিল বলে ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নতুন আবেদনকারী বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কম জানাশোনা ব্যক্তিরাই বেশি প্রতারণার শিকার হন।
অভিযোগ রয়েছে, দালালদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হওয়ার পর আবেদনপত্রে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। পরে ওই চিহ্ন দেখে সংশ্লিষ্টদের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে সাধারণ আবেদনকারীরা দীর্ঘসূত্রতায় ভুগলেও দালালের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তুলনামূলক দ্রুত সেবা পান।
স্থানীয়দের মতে, মাদারীপুরে বিদেশগামী ও প্রবাসী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সারাবছর পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীদের চাপ থাকে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করেই সক্রিয় রয়েছে দালালচক্র।
সচেতন মহল বলছে, সরকারি সেবাকে দালালমুক্ত করতে হলে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন