প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডা নয়, বরং ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও পাঁচজন কর্মকর্তার মশক নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন মন্তব্য করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সাড়ে ১২টার দিকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি এটিকে ভুল তথ্য ও ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চসিক মেয়র বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। এর ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে চট্টগ্রাম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলেও তিনি জানান।
মূলত মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’ (Valent BioSciences) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা রাজ্যে একটি ল্যাব পরিদর্শনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। যেখানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত ও সিটি করপোরেশনের পাঁচ প্রতিনিধি দলের যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার জন্য গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন তারা। পরে ২৩ মে অনুমতি না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারসংক্ষেপটি ফেরত পাঠানো হয়। এরপর সেটি বিভিন্ন মিডিয়ায় আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১২টার দিকে মেয়র তার ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি এটিকে ভুল তথ্য ও ষড়যন্ত্র উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে মেয়র যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো:
ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে?
সালটি ২০১৬। আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে যখন মারাত্মক 'জিকা ভাইরাস' ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো প্রচলিত রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। তখন বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চক্র সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দিয়েছিল মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’ (Valent BioSciences)-এর একটি বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি।
ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও! গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (দীর্ঘ ৮ মাস) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির মশার লার্ভা নিধনের কেমিকেল ব্যবহার করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা ছিল ম্যাজিকের মতো—পানিতে ছিটানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি মশার লার্ভার পাকস্থলী ধ্বংস করে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি সম্পূর্ণ জৈবিক (Biological) হওয়ায় মানুষ, মাছ বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।
এই অভাবনীয় সফলতার পর, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার কেমিকেল আমদানির নির্ভরতা কমাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের (Joint Venture) ভিত্তিতে একটি কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের কারখানা করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি চসিক মেয়রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডার অঞ্চলে তাদের মূল কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সফরের যাবতীয় অর্থায়ন করার কথা ছিল স্বয়ং ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর। অর্থাৎ, সরকারের বা চসিকের কোনো টাকাও খরচ হতো না!
কিন্তু সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত হয়ে এসেছিল, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। এর ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই কারখানাটি হলে আমরা কী পেতাম?
১. শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা ও সারাদেশের মশার লার্ভা নিধনের কেমিকেল বাংলাদেশে উৎপাদিত হতো।
২. প্রতি বছর বিদেশ থেকে কেমিকেল আমদানির কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।
৩. ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ থেকে দেশের মানুষ স্থায়ী মুক্তি পেত।
ভুল তথ্য আর নোংরা রাজনীতির কারণে দেশের টাকা যেমন বিদেশে চলে যাবে, তেমনি একটি বিশাল সম্ভাবনার কবর হবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং দেশকে ডেঙ্গু-মুক্ত করতে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া জরুরি।
তিনি আরও লিখেছেন, ডা. শাহাদাতের নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবে বীর চট্টলা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন