প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোরের আলো ফুটতেই তাজা মাছ নিয়ে আসে ভ্যান, নছিমন, পিকআপ ভ্যান। পাইকাররাও বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে থাকেন। বেলা যত বাড়ে, তত জমে ওঠে নড়াইল সদরের বিছালী ইউনিয়নের চাকই বাজারের মাছের আড়ত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আড়ত মালিকরা টেবিল পেতে বসে আছেন। সেখানে একে একে নছিমন, ভ্যান, অটোরিকশা, মিনি ট্রাকে করে মাছ নিয়ে আসছেন ঘের মালিক ও জেলেরা। ক্রেতারা পছন্দের মাছ কিনছেন। কেউ কেউ লাইভ ফিশ হোল্ডিং সিস্টেমে মাছ জিইয়ে রাখছেন। ক্রেতা–বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর আড়ত এলাকা।
নড়াইল সদরের বিছালী ইউনিয়নের চাকই বাজারের মৎস্য আড়তে প্রতিদিনের চিত্র এটি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এ সময় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জানান বাজার কমিটির সদস্যরা।
আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ বছর আগে একটি দোকান নিয়ে শুরু হয়েছিল চাকই বাজারের আড়তের যাত্রা। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আড়তের সংখ্যা। বর্তমানে বাজারে আড়তের সংখ্যা পাঁচ। নবগঙ্গা, চিত্রা, মধুমতি নদীর মাছ ছাড়াও আসে খাল-বিল ও ব্যক্তি মালিকানার মাছের ঘের থেকে।
ব্যবসায়ীরা এসব মাছ পাইকারি দামে কিনে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, নড়াইল জেলা শহরের বাজারে তোলেন। এ ছাড়া ছোট পাইকাররা বিক্রি করেন গ্রামের বাজার ও পাড়া-মহল্লায়ও।
আড়তদার ছাড়াও অন্তত ২৫ জন খুচরা বিক্রেতা প্রতিদিন এ বাজারে মাছ বিক্রি করেন। পাইকারি ও খুচরা মাছ কিনতে আসেন স্থানীয় ও দূরের ক্রেতারা।
স্থানীয়রা জানায়, বাজারটি জমে ওঠায় এলাকার অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
মাছের আড়তে কাজ করা রুবেল হোসেন নামের এক শ্রমিকের ভাষ্য, ‘আমাদের এখান থেকে জেলা শহর অনেক দূরে। রাজমিস্ত্রীর কাজও বেশ কঠিন। যাওয়া-আসায় অনেক সময় যায়। এদিকে অনেক জমি মাছের ঘের হয়ে যাওয়ায় মাঠের কাজ কমে গেছে। চাকই বাজারে মাছের আড়ত হওয়ায় এখানে আমরা কাজ করে খেতে পারছি।’
রুবেলের মতো প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ কাজ করছেন চাকই বাজারের মাছের আড়তে।
স্থানীয় মাছচাষিরা বলছেন, তারা ন্যায্য মূল্যে সহজেই মাছ বিক্রি করতে পারছেন। সেইসঙ্গে নিরাপত্তা ও সঠিক মূল্য পাওয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাজারটি।
সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের শোলপুর গ্রামের পারভেজ মোল্যা নছিমনে করে নিজের ঘেরের মাছ বিক্রি করতে এসেছেন চাকই বাজরের মাছের আড়তে। তিনি বলেন, ‘চাকই বাজারের মতো এত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কোথাও নেই। এখানে কোনো ঝামেলা নেই, চুরি নেই। সঠিক ওজনে বেচাকেনা হয়। বাজারে পাঁচটি আড়ত রয়েছে। যার যেখানে ইচ্ছে মাছ বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়া এখানে মাছ আনতে আমাদের সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচে।’
চাকই বাজারের এ মাছের আড়ত থেকে মাছ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়। প্রতিদিনই পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করেন। জেলা শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাছ এখানে ন্যায্য মূল্যে পাওয়ায় আড়তের কদর রয়েছে পাইকারদের কাছেও।
নাটোর থেকে আসা আব্দুল জলিল নামের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি মাছের ব্যবসা করি। বিভিন্ন জায়গায় মাছ বিক্রি করি। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসার কারণে চাকই বাজারের আড়ত সকাল থেকেই জমজমাট থাকে। বাগেরহাট, ঢাকা, রংপুর, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখানে আসেন।’
এদিকে, চাকই বাজারের আড়ত ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মাছ বিক্রির জন্য চাষিদের আর দূর-দূরান্তের বাজারে ছুটতে হচ্ছে না। এক জায়গায় বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের উপস্থিতিতে গড়ে উঠেছে বড় বাজার। এতে মাছচাষিরা যেমন তাদের উৎপাদিত মাছের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
মেসার্স রূপালি ফিসের স্বত্বাধিকারী এম এম আজিম উদ্দিন বলেন, ‘মাছ চাষ করে চাষিরা যেন ন্যায্য দাম পান এবং হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তাছাড়া শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এ বাজারে।
চাকই চৌরাস্তা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসন বলেন, ‘বাজারটিতে দেশি- বিদেশি মাছ সকাল থেকে বেচাকেনা হয়। বাজারটি জমে ওঠায় এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এখানে আসা ব্যবসায়ীদের হয়রানি শিকার হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। বাজার কমিটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন