প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক, দুইটি প্রতিষ্ঠান, এআই এজেন্টের মাধ্যমে কোনো ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে জানানোর নিয়মে সমর্থন প্রদান করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের এক শুনানিতে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক যৌথ কমিটির শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন ওপেনএআইয়ের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কউন এবং অ্যানথ্রপিকের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিষয়ক নীতিপ্রধান ডেভিড মাস্টার্স।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
শুনানির সময় জেসন কউন মন্তব্য করেন, এআই কোম্পানিগুলোর জন্য ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা জানানো বাধ্যতামূলক হলে তারা সেটিকে সমর্থন করবেন। তার মতে, কর্তৃপক্ষকে কোন ধরনের ঘটনায় জানানো প্রয়োজন, সে বিষয়ে আইনের মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পোর্টালে একটি এআই এজেন্টের মাধ্যমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগটি জানার প্রায় তিন মাস পর ওপেনএআই অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি অবহিত করে। দেশটির আরও তিনটি সরকারি ওয়েবসাইটে এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিষয়টি জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছিল। জেসন কউন স্বীকার করেছেন, কোম্পানির ভেতরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াটি আরও উন্নত করার প্রয়োজন ছিল।
অ্যানথ্রপিকও বাধ্যতামূলক ডেটা লঙ্ঘন রিপোর্টিংয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা জানান, এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে তারা তদন্ত করেছে। তবে অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের কোনো সিস্টেমে তাদের পণ্য লঙ্ঘন করেছে—এমন প্রমাণ তারা তদন্তে পায়নি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই ডেটা সেন্টার এবং কপিরাইট সুরক্ষা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ায় বড় ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিককে সম্ভাব্য প্রধান গ্রাহক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এআই মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়েও বিতর্ক চলছে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমন নিয়মের বিরোধিতা করছে, যাতে স্বত্বাধিকারীরা আলাদাভাবে আপত্তি না জানালে এআই কোম্পানিগুলো তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) কনটেন্ট ও লিগ্যাল অপারেশনের প্রধান কেট গিলক্রিস্ট মন্তব্য করেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কপিরাইট মালিকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপাবে।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের এই শুনানি আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন