প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর খবর শোনার ফলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য ব্যাংকটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এই ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত আছে এবং ব্যাংকে কোনো ধরনের তারল্য সংকট নেই। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা ও উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় রোববার (৭ জুন) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ব্যাংকটির শীর্ষ এই কর্মকর্তা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত এমডি মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, সারাদেশের কিছু গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার খবরে বিভ্রান্ত হয়ে টাকা তুলতে চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত আছে এবং এখানে বড় কোনো তারল্য সংকট নেই।
তিনি গ্রাহকদের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, আপনাদের টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও খুশি হলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও আমরা গ্রাহকদের জন্য আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য যা কিছু করা দরকার, ইনশাআল্লাহ আমরা তা করব। ইসলামী ব্যাংক অতীতের কঠিন সংকটেও টিকে ছিল।
অতীতে ব্যাংকের প্রতি জনগণের অবিচল আস্থা থাকায় তারা বিপর্যয়ের পরও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী বড় সংকটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তখনও জনতার আস্থার কারণে ব্যাংক সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছিল। বর্তমানে ব্যাংকটির আমানতও প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি, বর্তমান সংকট কাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক এবারও শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে।
ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের বিষয় উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, পূর্বেকার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এখন ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের স্পষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। ম্যানেজমেন্ট প্রতিটি বিনিয়োগ খুবই ভালোভাবে পর্যালোচনা করে অনুমোদন করেন।
তিনি বলেন, এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের (বায়াসনেস) সুযোগ নেই এবং কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নয়। ফলে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা অন্য কোথাও চলে যাওয়ার বা পাচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কেও মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় আমাদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও তারা আমাদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা আশা করি, বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত আমাদের সহায়তার হাত আরও বাড়িয়ে দেবে।
তিনি পুনরায় ব্যাংকের সমস্ত স্তরের সম্মানিত গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ করেন যে, তারা কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে শান্ত থেকে ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন