প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে হওয়া এই দুই ভূমিকম্পের কারণে ধসে পড়েছে বহু ভবন। বর্তমানে আশঙ্কা করা হচ্ছে বহু মানুষের প্রাণহানিরও। জানা গেছে, ভূমিকম্পটির আঘাত হানার পর ভেনেজুয়েলায় ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবিসিতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যেখানে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফ্যালকন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জানা যায়, প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর, আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প ঘটে, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল, বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী কারাকাসসহ অন্যান্য শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। এই অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য, কর্তৃপক্ষ রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মোতায়েন করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, 'ভূমিকম্পের ঘটনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা 'ভয়াবহ'।
১৮২১ সালের কারাবোবোর যুদ্ধের স্মরণে জাতীয় ছুটি উদযাপনের সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬:০৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে।
পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভেনেজুয়েলার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে দেশটির অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেশী কলম্বিয়ার বোগোটা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তেরেসা বো জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কারাকাসে, বিশেষ করে আলতামিরা জেলায়। এখানে জরুরি সেবাকর্মীরা একটি ২২তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করছে বলে জানিয়েছে।
রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত ও আহতদের বয়স, লিঙ্গ বা অবস্থান ভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকার কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
কারাকাসের আলতামিরা ও এল প্যারাইসো এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া লা গুইরা এবং মধ্য ভেনেজুয়েলার অন্যান্য এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক ভবনই অপরিবর্ধিত ইটের গাঁথুনি ও অ্যাডোবি (কাদামাটি ও খড়ের মিশ্রণে তৈরি) উপকরণ দিয়ে নির্মিত, যা শক্তিশালী ভূমিকম্পে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সংস্থাটির সবশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার থেকে ১০ হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা ৩৯ শতাংশ এবং ১০ হাজার থেকে ১ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা ৩৭ শতাংশ। তবে এগুলো জরুরি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত হতাহতের সংখ্যা নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন