প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা ছাড়ার জন্য ইসরায়েলি কড়া বিধিনিষেধের ফলে জীবন রক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ক্যানসার রোগী। দক্ষিণ গাজার একটি আশ্রয়কেন্দ্রের ভবনের সিঁড়ির নিচে বসে ৩৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা খুলুদ আবু সাহমুদ ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে পরাজিত হচ্ছেন।
১৫টি কেমোথেরাপি সেশন নেওয়ার পর, দুই সন্তানের জননী আবু সাহমুদকে জানানো হয় যে গাজায় এখন প্রচলিত যেসব ওষুধ রয়েছে, সেগুলি তার ক্যানসারের ধরনের জন্য উপযুক্ত নয়। চিকিৎসার অনিশ্চয়তার কারণে আবু সাহমুদের শারীরিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মিডল ইস্ট আইকে আবু সাহমুদ বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন যে এই কেমোথেরাপি আমার শরীরে কোনও কাজ করছে না। এতে ক্যানসার নিরাময় হচ্ছে না, বরং আমার চুল ও নখের পতন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আমাকে জর্ডান বা তুরস্কে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, আমি নয় মাস ধরে অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। আমি প্রতিদিন আরও দুর্বল হয়ে পড়ছি, আর ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৪৬ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারে বিশেষ ওষুধের অভাবজনিত সংকটের কারণে স্তন, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও সারকোমাসহ প্রীবল ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেবা স্থগিত রয়েছে। গাজার প্রায় ১১ হাজার ক্যানসার রোগীর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার জনকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল দেওয়া হলেও, ইসরায়েলের সবুজ সংকেতের অভাবে তারা গাজা ছাড়তে পারছেন না।
গাজা সেন্টার ফর ক্যানসারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন, যা এখন সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে রোগীদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৪ হাজার শিশুসহ ২০ হাজারের বেশি মানুষ জরুরি চিকিৎসাজনিত স্থানান্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে সীমান্তের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রতিদিন হাতে গোনা মাত্র কিছু মানুষের গাজা ছাড়ার সুযোগ হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র চিকিৎসার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ১ হাজার ৫৭০ জনের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
পিএইচডি ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপক আবু সাহমুদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি শিখতে এবং পড়াতে ভালোবাসতাম। কিন্তু এই অসুস্থতা ও অন্তহীন অপেক্ষা আমার জীবনের সমস্ত স্বপ্নকে কেড়ে নিয়েছে। গাজায় এখন সুস্থ মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন, এবং সেখানে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন