প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যের জন্য ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) এটি সই হতে পারে, বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো ব্যাপক ধোঁয়াশা বিরাজমান রয়েছে। চুক্তির বিষয়বস্তু ছাড়াও, এর বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা করছে।
ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট রয়ে গেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করবে ইরান। এটি সমঝোতা স্মারকের অংশ বলেও তেহরান দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।
ইরানের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার বিষয়টিও ধোঁয়াশায় রয়েছে। ইরানের দাবি, চুক্তিতে সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এটি কি বর্তমান সমঝোতা স্মারকের অংশ, নাকি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভবনাময় বৃহত্তর চুক্তির অংশ—সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।
একইভাবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রত্যাহারের বিষয়টিও বলেছেন। এই বিষয়টি আদৌ বর্তমান সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, সে সম্পর্কেও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
ফলে সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগমুহূর্তেও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চুক্তির বিভিন্ন ধারা ও শর্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেশ দুটির মধ্যে একটি চুক্তি রোববার সই হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং তা নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং রোববার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর পরে আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা খুব বেশি হলেও তা রোববারও হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে জেনেভা বা অন্য কোথাও সফরের পরিকল্পনা নেই তাদের।
যদিও মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন