প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের সাগরের গভীরে শত শত বছর ধরে তলিয়ে থাকা একটি মধ্যযুগীয় গ্রামের রহস্য উদ্ঘাটনে ডুবুরিরা বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তারা উত্তর সাগরের (North Sea) তলদেশে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক গ্রাম ‘শিপডেন’ (Shipden)-এর ২৫টি কৃত্রিম বা মানবসৃষ্ট কাঠামোর ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করেছেন। এই স্থানটিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের নিজস্ব ‘অ্যাটলান্টিস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি ইংল্যান্ডের নরফোকের ক্রুমার (Cromer) উপকূলের কাছে ঘটেছে। ১০৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘ডুমসডে বুক’-এ শিপডেন গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে ওই সময়ে ১১৭ জন অধিবাসী, একটি বন্দর, রাজপ্রাসাদ এবং দুটি গীর্জার উপস্থিতি ছিল। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমুদ্রের ভাঙন, জোয়ারের জল বৃদ্ধি ও তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে পুরো গ্রামটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়।
‘অ্যালফ্রেড স্যাভিন প্রজেক্ট’-এর অধীনে ক্রোমার মিউজিয়ামের গবেষক ও ডুবুরিদের একটি দল সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। তারা সাগরের তলদেশে পাথর দিয়ে তৈরি একটি প্রাচীরের সন্ধান পেয়েছেন, যা সম্ভবত মধ্যযুগে সমুদ্রের ঢেউ থেকে গ্রামকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই নতুন আবিষ্কারটি স্থানীয়ভাবে ৭০০ বছর ধরে প্রচলিত একটি লোককথা ও বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেরা বিশ্বাস করতেন, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ‘চার্চ রক’ (Church Rock) নামক শিলাখণ্ডটি আসলে তাদের হারিয়ে যাওয়া ‘সেন্ট পিটার্স চার্চ’-এর চূড়া বা মিনার। এমনকি সাগরের নিচ থেকে গির্জার ঘণ্টার শব্দ শোনা যায় বলেও একটি রূপকথা প্রচলিত ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সার্ভে ও নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক সেন্ট পিটার্স চার্চটির অবস্থান চার্চ রকের আরও উত্তর-পশ্চিমে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে চার্চ রক বলে যা চেনা হতো, তা সম্ভবত গির্জার কোনো অংশ নয়।
গবেষণা দলের পরিচালক ও ক্রোমার মিউজিয়াম ফ্রেন্ডস গ্রুপের চেয়ারম্যান পিটার স্টিবনস জানান, “প্রচলিত রূপকথার বাইরে এসে নতুন এই তথ্যগুলো আমাদের শত বছরের পুরনো বিশ্বাসের বিষয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।” তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাগরের তলদেশ থেকে সংগৃহীত নিদর্শন ও মানচিত্র বর্তমানে ক্রোমার মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সেন্ট পিটার্স চার্চের সঠিক স্থান চিহ্নিত করার পাশাপাশি কীভাবে সময়ের সাথে সাথে উপকূলীয় পরিবেশ বদলে গিয়েছিল, তা জানাই এখন গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন