প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে লেবাননকে ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তিনি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বৈরুতে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কঠোর সমালোচনা করে জোসেফ আউন বলেন, ‘এটা আপনাদের দেশ নয়, আমাদের দেশ। এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ বিষয়ে হিজবুল্লাহকেও একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে বুঝতে হবে, আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এই সমস্যার সমাধান এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করতে আলোচনা ও কূটনীতি একমাত্র উপায়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় লেবাননে সংঘাত বর্তমানে আঞ্চলিক সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বলেছে, যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়ার উপর নির্ভর করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এই এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অস্ত্রবাহী পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।
তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ বারবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরও (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে গঠিত করা ইসরাইল ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার ভিতরে দখল করা সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জারি করা ওই বিবৃতিতে লেবাননকে সম্মান ও মর্যাদার দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, দেশটি এখনও দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম হামলার মুখে রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’র নামে যেসব হস্তক্ষেপ করছে, তা আসলে আরও বেশি সহিংসতা ও অপরাধ বাড়াচ্ছে।
এদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ এই চুক্তিকে ‘বাস্তবিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই একটি বিরাট সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে সতর্কতা দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহ ইসরাইলী জনপদে হামলা চালালে ইসরাইলির সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে।
পাল্টা সতর্কতা দিয়েছে ইরানও। গত বুধবার (৩ জুন) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনের সঙ্গে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননের বৈরুতের ওপর হামলার মুখে তারা ‘চুপ থাকবে না’। তার ভাষ্য মতে, বৈরুতের ওপর যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন