প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৬
বুড়িগঙ্গা নদীতে সিমসন খেয়াঘাটকে আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পারাপারের ভাড়া ২ টাকা স্থায়ীভাবে রাখার দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এই সময় তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়কে বিক্ষোভ করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ঘাটটি যতক্ষণ আগের স্থান থেকে সরানো হয়েছে, ততক্ষণ নদীপথে আসার সময় পাইকারি ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত পথ ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি তারা ২ টাকা থেকে ৫ টাকা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানান।
সমাবেশে ব্যবসায়ীরা বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি পোশাক বাজার। ১৯৮০ সালের দিকে এ বাজারটি গড়ে ওঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ক্রেতারা নৌপথ, ট্রলার ও অন্যান্য যানবাহনে এখানে এসে পোশাক কেনেন। তারা জানান, নদীপথে আসা ব্যবসায়ীর সংখ্যা অধিক।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০০৭ সালে প্রথমবার সিমসন খেয়াঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্দোলনের মুখে আলোচনার মাধ্যমে তা পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবার ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ঘাটে যাওয়ার সময় যাত্রীরা বিভিন্ন ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন, পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই ব্যবসা ও জনস্বার্থ রক্ষার্থে ঘাটটি পুনরায় আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ী মো. মারুফ বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে প্রায় ৪০০ বহুতল মার্কেট, ১০ হাজারের বেশি শোরুম এবং কয়েক হাজার পোশাক কারখানা বিদ্যমান। এখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের একটি বড় অংশের চাহিদা এ বাজার থেকে পূরণ হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী নদীপথে এ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাই ব্যবসার স্বার্থে ঘাটটি পুনরায় আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন সোনামিয়া বলেন, ঘাট স্থানান্তরের পর পাইকারি ক্রেতাদের বাজারে আসতে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে বেশকিছু ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাটটি পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হবে। যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে ঘাট স্থানান্তরের কারণ, পারাপারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন