প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আটকে আছে। আসামিদের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি, এমনটাই আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বুধবার (১৫ জুলাই) আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ার ঘটনায় গত ৩০ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
দুদক কর্মকর্তার জমা দেয়া লিখিত ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, প্রথম মামলাটি (নম্বর-০৩/২০২৩) ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দায়ের করা হয়। এই মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। বর্তমানে তিনি হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার তদন্ত চলাকালে শহিদুল ইসলাম তার মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৩১০/২০২৪) দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন এবং মামলাটির সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এরপর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩১ জুলাই পৃথক নির্দেশনায় হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। ফলস্বরূপ, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখন স্থগিত রয়েছে।
অন্যদিকে, শহিদুলের স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি (নম্বর-০৬/২০২৪) ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দায়ের করা হয়। এই মামলাটির তদন্তও স্বাভাবিক নিয়মে চলছিল। কিন্তু কামরুন নাহারও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (নম্বর-১৫০৫৮/২০২৪) দায়ের করেছেন। এরপর থেকে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরে ৩১ মার্চ মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকা মামলাগুলোর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ হচ্ছে, ডিসি অফিসের কর্মচারী শহিদুল সরল মানুষদের ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি কম দামে কিনে নিতেন। পরে এই জমি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। এছাড়া টিসিবির পণ্যের টাকা লুটপাট ও অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, এসব অনিয়মের মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যে শহিদুল কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি শহরে বিলাসবহুল বাড়িও গড়ে তুলেছেন। হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী কামরুন নাহারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত আছে। যদি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।'
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন জানান, 'মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা হলেই কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন