প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় চাল ও আটা কিনতে উপকারভোগীদের সারি। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ
‘সকাল ৮টার দিকে আইছি। এখন বিকেল সাড়ে ৩টা বাজে।
এখনও চাল-আটা পাইনি। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আসলে পুরো দিনটাই চলে যায়। বাড়ির কোনো কাজ করতে পারি না।’
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন জোসনা বেওয়া। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার এই বাসিন্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন ওএমএস-এর একটি বুথে। কম টাকায় চাল ও আটা কিনে ঘরে ফিরবেন- এই আশায়। কিন্তু সেই আশা তার সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পূরণ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আক্কেলপুরে সরকারের খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় চাল ও আটা কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। এতে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে গৃহিনীদের দৈনন্দিন কাজও।
উপকারভোগীরা বলছেন, জনবল সংকটে দুটি বুথের পরিবর্তে একটি বুথে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দিনমজুরদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গৃহিনীদের দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
একইসঙ্গে নিয়মিত কিছু ব্যক্তি চাল-আটা কিনে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি সারি থাকলেও বিক্রয় কার্যক্রম চলছে একটি বুথে। সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন অনেক নারী-পুরুষ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চাল-আটা সংগ্রহ করতে পারেননি অনেকে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কেউ কেউ সারির পাশে বসে অপেক্ষা করছিলেন। তীব্র গরমের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিও তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
সারিতে অপেক্ষমাণ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিদিনই ওএমএসের বুথে মানুষের ভিড় থাকে। তবে কিছু মানুষ নিয়মিত ওএমএস-এর চাল ও আটা কিনে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক সময় কাঙ্খিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান তারা।
মানিকপাড়া গ্রামের রহিমা বিবি বলেন, সকাল ৭টায় লাইনে দাঁড়াইছি। দুপুর পার হলেও এখনও চাল-আটা পাইনি। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। যারা প্রতিদিন চাল-আটা কিনতে আসেন, তাদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করা প্রয়োজন। তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
ভ্যানচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে এসে দেখি অনেক বড় লাইন। এতক্ষণ অপেক্ষা করলে আজ আর আয়-রোজগার হবে না। তাই চাল-আটা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছি।’
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত ১ জুলাই থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুই টন চাল ও দুই টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন এ সুবিধা পান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন উপকারভোগীর কাছ থেকে মূল্যগ্রহণ, আঙুলের ছাপ নেওয়া, অমোচনীয় কালি লাগানো এবং খাদ্যপণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে বিক্রির গতি কমে গিয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি বুথে বিক্রির কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে একটি বুথ থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত যারা চাল ও আটা কিনতে আসেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, ওএমএস-এর মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে। এর পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর চাইলে তাঁদেরকে আরো সহযোগিতা করা হবে।
ইউএনও বলেন, ইতোমধ্যে নিয়মিত চাল ও আটা কিনতে আসা কয়েকজনকে চিহ্নিত করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন