প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্যারিসভিত্তিক ইরানবিরোধী জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরানের (এনসিআরআই) পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ আয়োজনে বাধা দিয়েছে ফ্রান্স পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বিপরীতমুখী মতাদর্শের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকতে পারে।
এনসিআরআই এই যুক্তিকে ‘ভুয়া ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
এনসিআরআই অভিযোগ করেছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলস্বরূপ তাদের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার সময় এই বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করেননি বা এটি বাতিলের কোনো অনুরোধও জানাননি।’
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের ভাষায়, ‘বিপরীতমুখী মতাদর্শের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, যা জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে।'
অন্যদিকে এনসিআরআই দাবি করেছে, শনিবার প্রায় এক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ইরানে রাজনৈতিক মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে সমাবেশটি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। এজন্য গত দুই মাস ধরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে এনসিআরআই।
এর আগে ২০২৩ সালে প্যারিস পুলিশ নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা বলে এনসিআরআইয়ের একটি সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। পরে আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে।
এনসিআরআই হলো ইরানের পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশনের (এমইকে) রাজনৈতিক শাখা। বহু বছর ধরে তারা প্যারিসে বড় বড় সমাবেশ আয়োজন করে আসছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আরব বিশ্বের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন।
ইরানের ভেতরে এনসিআরআই নিষিদ্ধ। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে প্যারিস, ওয়াশিংটন এবং রিয়াদে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
যদিও ইরানের অভ্যন্তরে সংগঠনটির প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাসিত শাহপুত্র রেজা পাহলভির সমর্থকদের পাশাপাশি এনসিআরআইকে ইরানবিরোধী রাজনীতির অন্যতম সংগঠিত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, ‘যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভोगী ইরানের সাধারণ জনগণ।’ তিনি ইরানকে একটি মহান জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘আমরা ইরানের জনগণ এবং ইরানি শাসনব্যবস্থার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করি।’
তবে নির্বাসিত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে ফ্রান্স একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন