প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীবাসীদের পাতালরেলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে বর্তমান সরকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে। অতিমূল্যায়িত প্রকল্প ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে বহুল আলোচিত ‘এমআরটি লাইন-৫’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
ব্যয়-সাশ্রয়ী সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখন অনুমোদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ লাইনের রুটের অ্যালাইনমেন্ট ও সামগ্রিক নকশার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই নির্মিত হবে মাটির নিচে। মাটির ওপরিভাগ থেকে গভীরতা ৫৬ فوت থেকে ১৫৩ ফুট পর্যন্ত হবে এই পাতাল রেলের রুট।
মোট রুটের ১৩.৫০ কিলোমিটার অংশ পাতাল এবং বাকি ৬.৫০ কিলোমিটার অংশ উড়াল পথ হিসেবে থাকবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের প্রাক্কলন করা উচ্চ ব্যয় কাটছাঁট করে সংশোধিত ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় প্রকল্পের ব্যয় ৪৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক বি জে (অব) আবদুল ওহাব বলেছেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রাক্কলিত মূল্য কমে এসেছে। আমরা জবাবদিহিমূলক সরকারি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই।’
চূড়ান্ত ডিপিপি অনুযায়ী, ৪৮ হাজার কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পের সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা কিছু বেশি জোগান দেওয়া হবে। বাকি প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ অথবা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে। শুরুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়নের কথা থাকলেও পরে দক্ষিণ কোরিয়া কো-ফাইন্যান্সার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, মূল উন্নয়ন সহযোগী এডিবি কনসালট্যান্সি ও সিভিল প্যাকেজগুলোতে এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক সিস্টেম প্যাকেজগুলোতে অর্থায়ন করবে। চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় ওই প্রস্তাব পেশ করা হবে অনুমোদনের জন্য।
বৈদেশিক অর্থায়ন জটিলতায় এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্পের অনুমোদন পিছিয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। অনুমোদন পিছিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজে যাতে এর প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ডিএমটিসিএল অগ্রিম ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের এ লাইন নির্মাণে অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং এডিবি।
এমআরটি-৫ প্রকল্পে এ অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রকল্প অনুমোদনের পর অন্তত এক বছর সময় বাঁচবে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরীর প্রথম পূর্ব-পশ্চিম করিডরে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতি একমুখী বিদ্যুৎচালিত মেট্রো ট্রেন ১৪টি স্টেশনে থেমে মাত্র ৩২ মিনিটে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত যাতায়াত সম্পন্ন করবে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে প্রচুর শব্দ ও কম্পন দূষণের মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে থাকবে। উড়াল পথের ভায়াডাক্টের উভয় পাশে আধুনিক শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল অংশের টানেল সংলগ্ন মাটি প্রাকৃতিকভাবেই শব্দ ও কম্পন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলে এটি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করবে। শুরুতে ৮টি কোচবিশিষ্ট ১৮ সেট মেট্রো ট্রেনের মাধ্যমে এ লাইনে যাতায়াত শুরু হবে।
ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২ সেটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। ট্রেনের মাঝের ৬টি কোচে সর্বাধিক ৩৯০ জন এবং দুই প্রান্তের ট্রেইলার কোচে সর্বাধিক ৩৭৪ জন যাত্রী চড়তে পারবেন। একটি মেট্রো ট্রেন একবারে সর্বাধিক ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। এ লাইনে প্রতি ঘণ্টায় দু’পাশে ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। ব্যস্ত সময়ে ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর একটি করে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাবে। অত্যাধুনিক এ ট্রেনগুলো উড়ালপথে ঘণ্টায় সর্বাধিক ১০০ কিলোমিটার এবং মাটির নিচে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কারিগরি সহায়তার আওতায় প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকৌশলগত নকশা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ কাজের দরপত্র সংক্রান্ত নথির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং মোট ১০টি প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-০১ এর আওতায় ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি ৭৭.৫৬ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া, ১৪টি স্টেশন এবং পাতাল অংশের দুই প্রান্তের ট্রানজিশন সেকশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান আছে।
রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে: হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার, গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুনবাজার, ভাটারা, দাশেরকান্দি।
পাতাল স্টেশনসমূহ: গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার।
উড়াল স্টেশনসমূহ: হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার এবং ভাটারা/দাশেরকান্দি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন