প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সবকিছুতে নিখুঁত থাকার যে প্রচেষ্টা রয়েছে, তা একটি ইতিবাচক গুণ হিসেবে দেখা যায়। তবে নিখুঁত হওয়ার জন্য যে নিরন্তর তাগিদ থাকে, তা যদি আপনার মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তাহলে এর ফলস্বরূপ তা দ্রুত দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এবং অবসাদে পরিণত হতে পারে। এই জটিল সম্পর্কটি বোঝা এবং এই বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় জানাটা অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে সমাধান হবে আরো সহজ।
কেন নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়ায়? নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত। কারণ এটি অত্যন্ত উচ্চ মান পূরণ করার এবং যেকোনো মূল্যে ভুল এড়ানোর জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেদের কর্মক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন, তারা সমালোচনার ভয় পান এবং মনে করেন যে নিখুঁতের চেয়ে কম কিছু মানেই হলো ব্যর্থতা। এই ক্রমাগত স্ব-আরোপিত চাপ মনকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখতে পারে, যা উদ্বেগ, আত্ম-সন্দেহ এবং স্বস্তি পেতে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি দেখতে গেলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার ভয়ের কারণে এমনকি ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ বা দৈনন্দিন কাজও অতিরিক্ত চাপের মনে হতে পারে। এর ফলে, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা হয়তো তাদের কাজ পরীক্ষা করতে, পুনরায় করতে কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, যা উদ্বেগ এবং মানসিক অবসাদকে যেকোনোভাবে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ত্রুটির ওপর মনোযোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায়, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা প্রায়শই তাদের অর্জনগুলো তুলনায় ত্রুটির ওপর বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করে। অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে, তারা নিজেদের অবাস্তব মানদণ্ড দ্বারা মাপকাঠি নির্ধারণ করতে শুরু করে অথবা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতে থাকে। যেটি অপূর্ণতা এবং হতাশার অনুভূতির জন্ম দেয়। এই মানসিকতা একটি চক্র তৈরি করে, যেখানে উদ্বেগ নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে বাড়িয়ে দেয় এবং নিখুঁত হওয়ার প্রচেষ্টা উদ্বেগকে আরো বৃদ্ধি করে।
অনিশ্চয়তার অনুভূতির কথাও তুলে ধরা যায়। বহু নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তি অনিশ্চয়তার সঙ্গেও লড়াই করেন এবং যখন ফলাফল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তখন তারা অস্বস্তি অনুভব করেন। এর ফলে, দৈনন্দিন পরিস্থিতিগুলো আরও চাপের মধ্যে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে, ব্যর্থতার ভয় এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তারা ঝুঁকি নিতে, নতুন কিছু চেষ্টা করতে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করতেও বিরত থাকেন।
উদ্বেগ মোকাবিলার উপায় নিয়ে বলতে গেলে, ভালো করার চেষ্টা স্বাস্থ্যকর হলেও, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা তখনই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে যখন এটি মানসিক সুস্থতা, সম্পর্ক, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে শেখা প্রয়োজন। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে ভুল করা বিকাশের একটি স্বাভাবিক অংশ। নিখুঁত হওয়ার পরিবর্তে, অগ্রগতির ওপর মনোযোগ দেওয়া উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করুন। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা সামলানোর জন্য নমনীয় চিন্তাভাবনা গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন