প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ সচিবালয়ের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করে এই কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, নারীরা, তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে এতে অংশগ্রহণ করা জরুরি। সঠিক স্থানে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনা করে চারার বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি এ কথা বলেন। সরকার কর্তৃক গৃহীত নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি সেলের ৪র্থ সভা।
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, ২০২৬ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা।
তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ চারা রোপণ করা হয়েছে। এজন্য তিনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আঊয়াল মিন্টু বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি সফল করতে শুধু লাউয়ের চারা রোপণ নয়, রোপণ-পরবর্তী নিয়মিত পরিচর্যা, সুরক্ষা এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘রাইট ট্রি, রাইট প্লেস’ নীতি অনুসরণ করে দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বৃক্ষ যেমন নারিকেল, তাল, খেজুর, সুপারী ইত্যাদি রোপণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে জোর দেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হলে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নারী, তরুণ ও গ্রামীণ জনগণের অংশগ্রহণে সাড়ে তিন লাখের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সারা দেশে নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সভায় প্রতিটি রোপিত গাছের জিপিএস ভিত্তিক অবস্থান, প্রজাতি, রোপণের তারিখ, জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি ও পরিচর্যার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাপটির মাধ্যমে গাছের বেঁচে থাকার হার, প্রতিস্থাপনমূলক বৃক্ষরোপণ, জেলা ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অগ্রগতি এবং রিয়েল-টাইম প্রতিবেদন জাতীয় ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম, বৃক্ষরোপণ সেলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন