প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণা উপলক্ষে ইনুকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঘোষণা করবেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)। এর মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হবে।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগটি হল, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা প্রদান এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইনু সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।
তৃতীয় অভিযোগটি হল, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা তৈরি করা এবং তাঁদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পঞ্চম অভিযোগ হল, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা এবং সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংগঠনের কৌশলগত সমর্থন প্রদান করা।
ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সপ্তম অভিযোগ হলো, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করা।
অষ্টম এবং শেষ অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং একইসঙ্গে সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন