প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানি এবং অতিরিক্ত টাকায় আদায়ের অভিযোগে এক দালালকে হাতেনাতে ধরে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিনব শাস্তি হিসেবে এই পরিষ্কারকাজ পরিচালিত হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মামুন ইসলাম এক যুবককে ধরে তাকে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। পরে সেই ময়লা ড্রামে করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে। এভাবেই পুরো ড্রেনটি অভিযুক্তকে দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর হাসপাতাল আসা রোগীদের সঙ্গে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি করানো হয় অভিযুক্তকে।
ছাত্রদল নেতা মামুন ইসলাম গণমাধ্যমে বলেছেন, "যখন আমরা জানতে পারলাম, বকশিশ না দেওয়ায় রোগী বহনের ট্রলি দেয়নি, এবং সময়মতো রোগীরা চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পারায় একজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। এ খবর পাওয়া সঙ্গেই আমরা ছাত্রদল কর্মীরা সেখানে যাই এবং রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি বিভাগে দালালকে হাতে নাতে ধরি। পরে সেই দালালকে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিষ্কার করিয়ে নেই।"
তিনি আরও বলেন, "এই অভিনব শাস্তির উদ্দেশ্য হলো, দালাল সিন্ডিকেট কমবে এবং ময়লা ড্রেন পরিষ্কার হবে। রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত টাকায় আদায়, এবং ট্রলি নিয়ে ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে আমরা রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলাম, চোর, ছিনতাইকারী অথবা দালাল চক্রের কেউ ধরা পড়লে, তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করানো হবে।"
ভুক্তভোগী রোগীর আত্মীয় রিপন মিয়া গণমাধ্যমে বলেছেন, "ট্রলি বহনকারীদের সঙ্গে হাসপাতালের একটি শ্রেণীর যোগসাজশে বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। সেই সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সবাই নেয়। যদি তাদের মধ্যে কাউকে কিছু বলা হয়, তাহলে পুরো সিন্ডিকেট আপনাকে হেনস্তা করবে, আপনার রোগীর প্রতি ঊদ্ধত আচরণ করবে। চিকিৎসায় পদে পদে বাধা তৈরি করবে। যার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যায় মেনে নিতে হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার প্রয়োজন।"
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছেন, "মেডিকেলের জরুরি বিভাগে রাতের বেলায় ট্রলি নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। এত বড় হাসপাতালে একাই লড়াই করে, উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়া কঠিন। হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। জনবল দরকার। তাহলে রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন