প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই পরবর্তী দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈষম্যহীন এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং আচরণগত সংস্কৃতির পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
আজ ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ক্লিন সিটি গড়ার লক্ষ্যে নিজে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে বলেছেন। সিটি করপোরেশনকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের আশা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন।
মন্ত্রীর মতে, মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে না পারলে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।
এ সময় কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে গত ৫ মাসে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। কেবল প্রধানমন্ত্রী সমাজ ও দেশ গড়ার পরিবর্তন ধারণ করে চলেছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ যারা পূর্বে ঘুষ খেতেন, দুর্নীতি করতেন এবং সুযোগের ব্যবহার করতেন, তারা এখন ফ্যাসিস্ট থেকে ভোল পাল্টিয়ে জুলাইয়ের পরিবর্তনে সুবিধা নিচ্ছেন। এই বিষয়গুলো দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী এসব সংস্কৃতি বদলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এই দেশে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে প্রাণ দিতে হয়েছে। ক্ষুদিরাম বসু ও প্রীতিলতা সহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু মানসিক কাক্সিক্ষত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা হতে পারেনি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের পর আবার ২০২৪ এসে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট শাসকদের বিতাড়িত করা হয়েছে।
জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে ভোগবাদী আচরণের পরিবর্তনের প্রয়োজনের কথাও বলেছেন মন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বহু সভা-সমাবেশ করেছি। সবসময় বলি, দেশ বদলাবে যারা, সেই তরুণরা কোথায়? সেই তারুণ্য কোথায়?
তিনি বলেন, ২৪-এ এসে তরুণরা আন্দোলনে নেমেছে। নিজের জীবন দিয়ে এই দেশ থেকে ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করেছে। এদিকে আবার আগের সমাজে ফিরে গেলে হাজারো প্রাণের বলিদান হয়ে যাবে বৃথা। জীবন দিয়েছেন যে সকল ব্যক্তি, তাদের ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।
মন্ত্রী মনে করেন, সেই ত্যের চেতনা ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় সেনাবাহিনী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, "আপনাদের কমান্ডারের নির্দেশই সব।" তিনি বলেন যে স্বাধীনতার ডাক মানতে হবে। এরপর বেগম জিয়াকে বন্দী হয়ে থাকতে হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় প্রতিশোধহীন এবং প্রতিহিংসাহীন দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসি’র সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস সম্পর্কিত প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন